‘স্ত্রীর কপালে সিঁদুর দেখে খুন বিতানকে’, মৃতের সন্তানের পড়াশোনার সব দায়িত্ব নিলেন শুভেন্দু

কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন কলকাতার বেহালার বাসিন্দা বিতান অধিকারী। স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে ভূস্বর্গ ভ্রমণে গিয়ে জঙ্গিদের গুলিতে প্রাণ হারান তিনি। বিতানের স্ত্রী সোহিনী অধিকারীর অভিযোগ, তাঁর কপালে সিঁদুর দেখেই জঙ্গিরা তাঁর স্বামীকে নিশানা করেছিল। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ বিতানের পরিবার। এরই মাঝে বিতানের ছোট্ট সন্তানের সমস্ত পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

জানা গেছে, ফ্লোরিডায় কর্মরত বিতান অধিকারী ছুটি কাটাতে কলকাতায় ফিরেছিলেন। গত ১৮ই এপ্রিল স্ত্রী সোহিনী ও পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে কাশ্মীর বেড়াতে যান তাঁরা। আগামী বৃহস্পতিবার তাঁদের কলকাতায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু গত মঙ্গলবার পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলায় অন্য পর্যটকদের সঙ্গে বিতানও প্রাণ হারান। সোহিনী অধিকারীর সামনেই এই নারকীয় ঘটনা ঘটে।

হামলার পর বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা বিতানের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান সোহিনী। তিনি বলেন, জঙ্গিরা এসে মুসলিম পর্যটকদের সরে যেতে এবং কালমা বলতে বলছিল। যারা কালমা বলতে পারেনি বা যাদের কপালে সিঁদুর দেখা গেছে, তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। সোহিনীর চোখের সামনেই বিতান গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন।

পহেলগাঁওয়ের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার কলকাতায় একটি মোমবাতি মিছিলের আয়োজন করা হয়। মৌলালির পেট্রল পাম্প থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি শিয়ালদহ ব্রিজে শেষ হয়। এই মিছিলে শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও বিজেপি নেতা অর্জুন সিং এবং তাপস রায় সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকেই শুভেন্দু অধিকারী পহেলগাঁও হামলায় নিহত বাংলার আরও দুই পর্যটকের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। একইসঙ্গে তিনি বেহালার বিতান অধিকারীর অকালপ্রয়াত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং বিতানের ছোট্ট সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তার সম্পূর্ণ পড়াশোনার খরচ বহন করার অঙ্গীকার করেন।