পহেলগাঁও হামলার পর পাকিস্তানের উপর বজ্রআঘাত ! কড়া জবাব ভারতের, সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত, বন্ধ হচ্ছে সম্পর্ক?

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব এবং কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। এই হামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইসলামাবাদকে কড়া বার্তা দিয়ে দিল্লিতে নিযুক্ত সমস্ত পাকিস্তানি সামরিক কূটনীতিককে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি সিন্ধু জলচুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, পাকিস্তান সরকারের অফিসিয়াল এক্স (আগের টুইটার) অ্যাকাউন্টের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত, যা প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সবরকম সম্পর্ক ছিন্ন করার স্পষ্ট ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
গত ২৩ এপ্রিল পহেলগাঁওতে নিরীহ পর্যটকদের উপর হামলার পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS)-র জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ভারত দীর্ঘকাল ধরেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সীমান্ত সন্ত্রাসবাদে মদত ও আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলে আসছে এবং এই হামলার ঘটনা সেই অভিযোগে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বুধবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি ভারত সরকারের গৃহীত এই পদক্ষেপগুলি বিস্তারিতভাবে ঘোষণা করেন। তিনি জানান, উভয় দেশের কূটনৈতিক মিশনের কর্মীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। ভারত ও পাকিস্তান উভয়েরই হাইকমিশন তাদের কর্মীসংখ্যা ৫৫ জন থেকে কমিয়ে ৩০ জনে নামিয়ে আনবে, যা আগামী ১লা মে’র মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এর পাশাপাশি, নয়াদিল্লিতে অবস্থিত পাকিস্তানি হাইকমিশন থেকে সমস্ত প্রতিরক্ষা, নৌ এবং বিমান উপদেষ্টাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এই ব্যক্তিদের ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করে এক সপ্তাহের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, ভারতও ইসলামাবাদে তাদের হাইকমিশন থেকে নিজস্ব সামরিক উপদেষ্টাদের ফিরিয়ে আনবে। উভয় মিশনের পরিষেবা উপদেষ্টাদের জন্য নিযুক্ত পাঁচজন সহায়তা কর্মীকেও প্রত্যাহার করা হবে।
কূটনৈতিক স্তরের এই কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি পাকিস্তান থেকে আসা নাগরিকদের ভিসার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ভারতে অবস্থানরত কিছু পাকিস্তানি নাগরিককে আগামী ১লা মে’র মধ্যে দেশে ফিরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর। এছাড়া, আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত পথও বন্ধ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, পহেলগাঁওয়ের নৃশংস জঙ্গি হামলায় এপর্যন্ত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গোটা দেশ শোকস্তব্ধ এবং ভূস্বর্গ কাশ্মীরে স্বজনহারাদের কান্নায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সমগ্র দেশ এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এই ঘটনার পরেই ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্তরে একগুচ্ছ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে স্পষ্ট বার্তা দিল যে সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার পরিণাম ভালো হবে না। ভারতের এই আগ্রাসী পদক্ষেপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।