ইতিহাস গড়ল জিম্বাবোয়ে, সাত বছর পর অ্যাওয়ে টেস্ট জয়, ধরাশায়ী বাংলাদেশ

ইতিহাস গড়ল জিম্বাবোয়ে। সাত বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে কোনো অ্যাওয়ে ম্যাচ জিতল তারা। তাও শক্তিশালী বাংলাদেশকে তাদেরই ঘরের মাঠে হারিয়ে। এই নিয়ে সব মিলিয়ে মাত্র চারটি অ্যাওয়ে টেস্ট জিতল আফ্রিকার এই দলটি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, টেস্টে ঘরের বাইরে জিম্বাবোয়ের প্রথম জয়টিও এসেছিল বাংলাদেশের বিরুদ্ধেই, সেই ২০১৮ সালে।
মঙ্গলবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টানটান লড়াইয়ের পর শেষমেশ ৩ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নেয় ক্রেগ আরভিনের দল। এই ম্যাচের মূল নায়ক ছিলেন জিম্বাবোয়ের দীর্ঘদেহী পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি, যিনি ম্যাচে মোট ৯ উইকেট শিকার করেছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে একাই ৬ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন তিনি। তাঁর গতিময় বোলিংয়ের সামনে নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিমরা দাঁড়াতেই পারেননি।
টেস্ট ম্যাচের ভাগ্য যদিও প্রথম ইনিংসে অনেকটা নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। তুলনামূলকভাবে দুর্বল জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে বাংলাদেশি ব্যাটাররা প্রথম ইনিংসে অত্যন্ত হতাশাজনক পারফরম্যান্স উপহার দেন। মাত্র ১৯১ রানেই অল আউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। বল হাতে শুরুতেই ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে প্রাথমিক ধাক্কাটা দিয়েছিলেন মুজারাবানি। জবাবে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবোয়ে প্রথম ইনিংসে ২৭৩ রান তুলে মূল্যবান ৮২ রানের লিড পায়।
প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে থাকার রানের বোঝা দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের উপর আরও চেপে বসে। আর এই ইনিংসে আরও বিধ্বংসী মেজাজে ধরা দেন জিম্বাবোয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি। মাত্র ৭২ রানের বিনিময়ে তিনি তুলে নেন ৬ উইকেট। বাংলাদেশের পক্ষে নাজমুল হোসেন শান্ত ১০৫ বলে ৬০ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন বটে, কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। এছাড়া জাকের আলি ১১১ বলে ৫৮ রান করে তাঁকে সঙ্গত দেওয়ার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ অল আউট হয়ে জিম্বাবোয়ের সামনে জয়ের জন্য ১৭৪ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায়। জিম্বাবোয়ের দুই ওপেনার ব্রায়ান বেনেট (৫৪) এবং বেন কারেনের (৪৪) ৯৫ রানের শক্তিশালী ওপেনিং জুটির সৌজন্যে নির্ধারিত এই লক্ষ্য সহজেই তুলে ফেলে জিম্বাবোয়ে এবং ৩ উইকেটের এক ঐতিহাসিক জয় লাভ করে।