বিয়ের ৭ দিনের মাথায় বিধবা হলেন নববধূ, কাশ্মীরে হানিমুনে গিয়েই জঙ্গিদের গুলিতে প্রাণ গেল নৌসেনা অফিসারের

এ যেন ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! মাত্র সাতদিন আগেই চার হাত এক হয়েছিল। বিয়ের সাজের গন্ধ তখনও লেগেছিল গায়ে, হাত থেকে মেহেন্দির রঙ ফিকে হয়নি পুরোপুরি। এরই মধ্যে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় স্বামীর প্রাণ গেল। বিয়ের মাত্র সাতদিনের মাথায় বিধবা হতে হল হিমাংশী নরওয়ালকে।
মঙ্গলবার দুপুরে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিদের ছোঁড়া গুলিতে প্রাণ হারান ভারতীয় নৌসেনার লেফটেন্যান্ট বিনয় নরওয়াল। মাত্র সাতদিন আগেই তিনি গুরুগ্রামের বাসিন্দা হিমাংশীকে বিয়ে করেছিলেন। নতুন স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে হানিমুনের জন্য বেছে নিয়েছিলেন ভূস্বর্গ কাশ্মীরকে। কিন্তু এই ভূস্বর্গই যে তাঁদের জীবনে এমন ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে, জঙ্গি হামলার কিছুক্ষণ আগেও তা দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করেননি এই নবদম্পতি। মুহূর্তের মধ্যেই সব ওলটপালট হয়ে গেল। দুই পরিবারে এখন শুধু কান্নার রোল।
ঘুরতে এসে চোখের সামনে স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বছর ২৪-এর হিমাংশী। জানা গিয়েছে, গত ১৬ এপ্রিল হরিয়ানার কারনালের বাসিন্দা তথা নৌসেনার অফিসার বিনয় নরওয়ালের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। ১৯ এপ্রিল ছিল তাঁদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা (রিসেপশন)। মে মাসেই বিনয়ের ছুটি শেষ হওয়ার কথা ছিল, তার আগেই স্ত্রীকে নিয়ে কাশ্মীর ঘুরতে এসেছিলেন তিনি। ২২ তারিখ দুপুর পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু দুপুরের পরই ঘটে যায় সেই ভয়ংকর ঘটনা। হঠাৎ করে জঙ্গিদের আক্রমণে মুহূর্তের মধ্যে এলোমেলো হয়ে গেল দুজনের জীবন। চিরতরে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বিনয়।
জানা গিয়েছে, ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পর প্রায় তিন বছর আগে নৌসেনায় যোগ দিয়েছিলেন বিনয়। কেরলের কোচিতে কর্মরত ছিলেন তিনি। তাঁর বাবা রাজেশ শুল্ক দফতরে কর্মরত এবং বর্তমানে পানিপথে কর্মরত। বিনয়ের দাদু ছিলেন প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক, তাঁর বয়স এখন ৮৭ বছর। মা আশাদেবী গৃহবধূ। বিনয়ের বোন, সৃষ্টি বর্তমানে দিল্লিতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হিমাংশী নিজেও পিএইচডি করছেন। কথা ছিল আগামী ২৭ মে বড় করে বিনয়ের জন্মদিন পালন করা হবে, কারণ এরপরই তাঁর ছুটি শেষ হওয়ার কথা ছিল এবং তিনি কাজে ফিরতেন। কিন্তু কাজে ফেরা আর হলো না বিনয়ের। জঙ্গিদের আক্রমণে সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।