যৌনতায় লিপ্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন জেলবন্দিরাও! ‘সেক্স রুম’-এর ব্যবস্থা করবে কর্তৃপক্ষ, এল নির্দেশ

শারীরিক ঘনিষ্ঠতা মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলির মতোই জরুরি – এই ধারণাটিকে স্বীকৃতি দিয়ে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি। প্রথমবারের মতো তাদের কারাগারগুলিতে বন্দীদের জন্য চালু করা হচ্ছে বিশেষ ‘সেক্স রুম’ বা সঙ্গম কক্ষ। এই অভিনব ব্যবস্থায় কারাবন্দীরা তাঁদের জীবনসঙ্গী বা দীর্ঘদিনের সঙ্গিনীর সাথে একান্তে সময় কাটানোর এবং অন্তরঙ্গ হওয়ার সুযোগ পাবেন।
আদালতের ঐতিহাসিক রায়ের পরিপ্রেক্ষিতেই সংশোধনাগারে এই বিশেষ ঘর তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার মধ্য উমবেরিয়া অঞ্চলের টেরনি কারাগারে প্রথম ‘সঙ্গম কক্ষটি’ চালু হয়েছে এবং একজন বন্দি তাঁর সঙ্গিনীর সঙ্গে নির্দিষ্ট সময় কাটিয়েছেন। রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশে বন্দীরা নিরাপত্তা রক্ষীদের উপস্থিতি ছাড়াই সঙ্গীর সঙ্গে প্রায় ২ ঘণ্টা পর্যন্ত একান্তে কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন।
যদিও নিরাপত্তার স্বার্থে ঘরের দরজা সম্পূর্ণ বন্ধ না রাখার নির্দেশনা রয়েছে এবং প্রয়োজনে রক্ষীরা হস্তক্ষেপ করতে পারবেন, তবুও এই পদক্ষেপকে বন্দীদের মানবিক অধিকারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্ত বন্দীরাই এই কক্ষ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এই ঘরগুলিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা থাকবে – খাট, বিছানা, বালিশ এবং অ্যাটাচড বাথরুম।
বন্দীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রথম পরীক্ষামূলক সাক্ষাৎ সফল হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বন্দীকে এই সুযোগ দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে দেওয়া আদালতের রায়ে বলা হয়েছিল, জেলবন্দীদের স্বামী, স্ত্রী বা দীর্ঘস্থায়ী সঙ্গীর সাথে কঠোর নজরদারি ছাড়াই একান্ত সাক্ষাতের অধিকার থাকা উচিত।
ইউরোপের ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস সহ বেশিরভাগ দেশেই বন্দীদের জন্য এই ধরনের অন্তরঙ্গ সাক্ষাতের ব্যবস্থা প্রচলিত। ইতালি এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো। ভারতে আইনত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও পাঞ্জাব সহ কয়েকটি জেলে (যেমন গোবিন্দওয়াল সাহিব সেন্ট্রাল জেল) এই ব্যবস্থা চালু আছে, যেখানে নির্দিষ্ট শর্তে সঙ্গীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি মেলে। তবে কুখ্যাত অপরাধী বা যৌন অপরাধীরা সাধারণত এই সুযোগ পান না। ভালো আচরণের ভিত্তিতে তিন মাসে একবার পর্যন্ত সঙ্গমের সুযোগ মিলতে পারে এবং কনডোম সরবরাহও বাধ্যতামূলক।
বর্তমানে ইতালির কারাগারগুলিতে ধারণক্ষমতার তুলনায় বন্দীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি এবং আত্মহত্যার হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বন্দীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাশিয়া, কানাডা, ব্রাজিল এবং ইজরায়েলের মতো অনেক দেশেও এই ব্যবস্থা চালু আছে, এমনকি ব্রাজিল ও ইজরায়েল সমকামী সঙ্গীদেরও অনুমতি দেয়।