SSC-দফতরে রাতভর ধর্ণা, আটকে চেয়ারম্যান ! চা-বিস্কিট ঘিরে উত্তেজনা

যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও মেলেনি চাকরি – এই অভিযোগে দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন চালাচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীরা। প্রতিশ্রুতি আর ডেডলাইনের বেড়াজালে আটকে থেকে এবার ধৈর্যের শেষ সীমায় পৌঁছেছেন তাঁরা। সোমবার যোগ্যদের তালিকা প্রকাশের কথা দিয়েও কথা রাখেনি স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। আর তাতেই ক্ষোভের আগুনে জ্বলে উঠেছেন আন্দোলনকারীরা। সোমবার বিকেল থেকে সল্টলেকের এসএসসি দফতর ঘেরাও করে রাতভর অবস্থান বিক্ষোভ করেন তাঁরা।
আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বার্তা, ‘ঘুমিয়ে নয়, আমরা সারা রাত জেগে পাহারা দিয়েছি। আমাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে যাতে চেয়ারম্যান স্যার কোনোভাবে পালিয়ে যেতে না পারেন, সেই কারণে পুলিশ পাহারাদারের মতোই আমরা গেটে পাহারায় ছিলাম। সারারাত না খেয়ে রাস্তার উপর বসে থেকেছি, জেগে রাত কাটিয়েছি।’
রাত যত গভীর হয়েছে, ততই আন্দোলনের ঝাঁজ বেড়েছে। এসএসসি দফতর কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের প্রবল বিরোধিতার মুখে পুলিশ কর্মীরাও পিছু হঠতে বাধ্য হন। শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস কিংবা কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা, সবই কথার কথা হয়েই থেকে গেছে যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের কাছে। সোমবার তালিকা প্রকাশ না হওয়ার পরই তাঁদের ক্ষোভ চরমে ওঠে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘেরাও চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন তাঁরা।
রাতভর বিক্ষোভের জেরে কমিশনের দফতরেই আটকে পড়েন এসএসসির চেয়ারম্যান এবং আরও কয়েকজন আধিকারিক। মঙ্গলবার সকালেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। এসএসসি ভবনের সামনে এখনও নিজেদের অবস্থানে দৃঢ় চাকরিহারা শিক্ষকরা।
এরই মধ্যে সকালে এসএসসি ভবনের সামনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। দেখা যায়, এক ব্যক্তি এসএসসি অফিসের ভেতরে চা, ভাঁড় এবং বিস্কিট নিয়ে ঢোকার চেষ্টা করছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন আন্দোলনকারীরা। অফিসের ভেতরে আটকে থাকা চেয়ারম্যানের জন্য চা-বিস্কিট যাচ্ছে দেখে তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ওই ব্যক্তিকে অফিসের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। অভিযোগ, তাঁর হাত থেকে বিস্কিটের প্যাকেট কেড়ে নেওয়া হয় এবং ধাক্কাধাক্কির জেরে চায়ের ভাঁড় মাটিতে পড়ে যায়। সেই ভাঙা ভাঁড় এবং ছড়ানো চা এখন রাস্তার উপরে পড়ে রয়েছে, যা আন্দোলনকারীদের অনমনীয় মনোভাব এবং বঞ্চনার এক করুণ প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।