মুর্শিদাবাদে বাবা-ছেলে খুন: মূলচক্রী জিয়াউল চোপড়া থেকে গ্রেফতার, ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪

মুর্শিদাবাদের অশান্তিতে বাবা ও ছেলেকে খুনের ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত জিয়াউল শেখকে উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত জিয়াউল সামশেরগঞ্জ থানা এলাকারই বাসিন্দা। এই নিয়ে এই জোড়া খুনের ঘটনায় মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হলো। এর আগে পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছিল।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত জিয়াউল সামশেরগঞ্জের সুলিতলা এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকেই সে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। আগে গ্রেফতার হওয়া তিন অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জিয়াউলের নাম জানতে পারে। এরপর গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া থেকে গ্রেফতার করে।
জানা গেছে, শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে জিয়াউলকে গ্রেফতার করে সিটের বিশেষ তদন্তকারী দলের সদস্যরা। তাকে রবিবার জঙ্গিপুরে নিয়ে আসা হচ্ছে। আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতে চাইবে পুলিশ বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের এই জোড়া খুনের ঘটনায় এর আগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। রাজ্য পুলিশের এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতীম সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই খুনিদের ধরতে তৎপর হয় পুলিশ। এরপর মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রথমে তিন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জিয়াউলের নাম জানতে পারে পুলিশ। এরপর এদিন তাকেও গ্রেফতার করে সিটের তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
আরও জানা গেছে, সুপ্রতীম সরকার তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বাবা-ছেলে খুনের মূল অভিযুক্ত ধরা পড়ে। ধৃতের নাম ইনজামুল হক। তাকে সুতি থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই জোড়া খুনের মূল পরিকল্পনাকারী ছিল ইনজামুল হক।
শুধু তাই নয়, ঠিক কাদের প্ররোচনায় মুর্শিদাবাদে এই গোলযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই পুলিশের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। বুধবার এই তদন্তকারী দল সামশেরগঞ্জ থানায় প্রথম বৈঠক করে। জানা গেছে, ওই বৈঠকে রাজ্য পুলিশের এডিজি সুপ্রতীম সরকার সহ সিটের ৯ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার সিটের সদস্যরা জাফরবাদে নিহত বাবা-ছেলের বাড়িতে যান। তাদের সঙ্গে ছিলেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। এরপর বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে এডিজি সুপ্রতীম সরকার জানান, বাবা-ছেলে খুনের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কালু ও দিলদারকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। সিট ইনজামুল হককে সুতির সুলিপাড়া থেকে গ্রেফতার করে। ধৃত ব্যক্তি প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছিল। খুনের ঘটনার পর এলাকায় বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট করা এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টাও সে করে। যারা এই খুনের সঙ্গে জড়িত, তাদের সকলকেই ধরা হবে এবং কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। রাজ্য পুলিশ তাদের শাস্তি নিশ্চিত করবে। আর এবার জাফরবাদ কাণ্ডে ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো চার।