OMG! দুই মাস আগে ট্রেনের ধাক্কায় ‘মৃত’, সেই কিশোর হেঁটেই ফিরে এলো বাড়িতে?

প্রায় দুই মাস আগে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত ভেবে যে কিশোরের দেহ সৎকার করেছিল পরিবার, এমনকি সরকারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণও পেয়েছিল ৪ লক্ষ টাকা, সেই কিশোরই কিনা অক্ষত অবস্থায় বাড়ি ফিরে এসেছে! বিহারের দারভাঙ্গা জেলায় এই অবিশ্বাস্য ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আদালতে দাঁড়িয়ে ভোলা রাম নামের ওই কিশোর জানিয়েছে, সে আদৌ মারা যায়নি, বরং তাকে অপহরণ করে নেপালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পুলিশ পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখছে বলে জানিয়েছেন এসডিপিও অমিত কুমার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, গত ৮ ফেব্রুয়ারি ভোলা নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার মাব্বি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি আল্লাপাত্তি এলাকায় রেললাইন থেকে এক ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। দারভাঙ্গা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ওই দেহটিকে ভোলার বলে শনাক্ত করে তার পরিবার এবং সৎকারও সম্পন্ন করে। শুধু তাই নয়, ভোলার ‘মৃত্যুর’ জন্য সরকার থেকে ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণও পায় তারা।

তবে, শুক্রবার পুলিশ যা জানিয়েছে, তাতে সকলের চক্ষু চড়কগাছ। ১৭ বছর বয়সি ভোলা বৃহস্পতিবার আচমকাই আদালতে এসে দাঁড়ায় এবং জানায় যে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল।

দারভাঙ্গার এসডিপিও অমিত কুমার জানিয়েছেন, “পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেদিন যে দেহটি ভোলার বলে শনাক্ত করা হয়েছিল, সেটি কার ছিল তা জানার চেষ্টা চলছে। ভোলা ফিরে আসার পর দাবি করেছে যে কয়েকজন তাকে অপহরণ করে নেপালে নিয়ে গিয়েছিল। তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”

জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দারভাঙ্গা জেলা আদালতে দাঁড়িয়ে ভোলা দাবি করে, সে তার এলাকায় কয়েকজনের সঙ্গে ক্রিকেট খেলছিল। তখনই ৩-৪ জন লোক এসে তার মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। অপহরণকারীরা তাকে নেপালে নিয়ে যায় বলে ভোলা জানিয়েছে। কোনোক্রমে তাদের নজর এড়িয়ে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয় সে। নেপাল থেকে একজনের ফোন নিয়ে সে বাড়িতে ফোন করে এবং ভিডিও কল করে তার দাদাকে বেঁচে থাকার খবর দেয়। তার দাদা নেপাল গিয়ে ভোলাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। বাড়ি ফিরে আসার পর থানায় না গিয়ে সরাসরি দারভাঙ্গা আদালতে যায় ভোলা।

এই ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠছে। প্রথমত, রেললাইনে উদ্ধার হওয়া দেহটি কার ছিল? দ্বিতীয়ত, কেন এবং কারা ভোলাকে অপহরণ করেছিল? এবং তৃতীয়ত, পরিবার কীভাবে ভুল দেহ শনাক্ত করল? পুলিশ জানিয়েছে, এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পেতে তারা গভীরভাবে তদন্ত শুরু করেছে। এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।