মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ উপেক্ষা করে মুর্শিদাবাদে রাজ্যপাল, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র আক্রমণ

গত সপ্তাহে অশান্ত থাকার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি। ধুলিয়ান, সুতি, সামশেরগঞ্জের মতো এলাকাগুলিতে খুলতে শুরু করেছে দোকানপাট। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শনে যাওয়ার কথা জানান। যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে এখনই না যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সেই অনুরোধ উপেক্ষা করেই শুক্রবার মুর্শিদাবাদ সফরের জন্য রওনা হয়েছেন রাজ্যপাল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালের বিরুদ্ধে কার্যত বেনজির আক্রমণ শানিয়েছেন।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কটাক্ষ:
এদিন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “যেদিন থেকে সিভি আনন্দ বোস রাজ্যপালের দায়িত্ব নিয়েছেন, সেদিন থেকে তিনি কেন্দ্র শাসক দলের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। উনি এখন বিজেপির মুখপাত্রে পরিণত হয়ে গিয়েছেন। যেখানে আদালত পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করার নির্দেশ কাউকে দেয়নি, সেখানে রাজ্যপাল শুধু ক্ষমতার অপব্যবহার করে মুর্শিদাবাদে যাচ্ছেন। এটা স্পষ্ট যে তিনি সম্পূর্ণরূপে বিজেপির এজেন্টে পরিণত হয়েছেন।”
মালদায় পৌঁছলেন রাজ্যপাল:
শুক্রবার বিকেলে মালদায় এসে পৌঁছেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সূত্রের খবর, আজ তিনি বৈষ্ণবনগরের যে স্কুলে মুর্শিদাবাদের ঘরছাড়া মানুষজন আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে দেখা করবেন। এরপর আগামীকাল অর্থাৎ শনিবার তিনি মুর্শিদাবাদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।
উল্লেখ্য, শুধু রাজ্যপালই নন, শুক্রবার সকাল থেকেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যরাও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা করার জন্য মালদায় গিয়েছিলেন। রাজ্যপালের এই সফর এবং তৃণমূলের তীব্র প্রতিক্রিয়া রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার, রাজ্যপালের মুর্শিদাবাদ সফর নতুন করে কী পরিস্থিতি তৈরি করে।