“ATM-পরিষেবা এবার চলন্ত ট্রেনেই”-রেলওয়ের অভিনব উদ্যোগে খুশি রেলযাত্রীরা

ভারতীয় রেলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চলন্ত ট্রেনে অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) ব্যবহারের সুযোগ পেতে চলেছেন যাত্রীরা। সেন্ট্রাল রেলওয়ে মুম্বই-মানমাড় পঞ্চবটী এক্সপ্রেসে পরীক্ষামূলকভাবে এই অভিনব সুবিধা চালু করেছে। বেসরকারি ব্যাঙ্ক ব্যাঙ্ক অফ মহারাষ্ট্রের সহযোগিতায় এই এটিএম বাতানুকূল চেয়ার কার কোচে স্থাপন করা হয়েছে। এই উদ্যোগ ভারতীয় রেলের নন-ফেয়ার রেভিনিউ (এনএফআর) স্কিমের অধীনে ভুসাওয়াল ডিভিশনের একটি উদ্ভাবনী পদক্ষেপ।
সেন্ট্রাল রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক স্বপ্নিল নীলা জানিয়েছেন, “পঞ্চবটী এক্সপ্রেসে পরীক্ষামূলকভাবে এটিএম স্থাপন করা হয়েছে।” এটিএমটি কোচের পিছনের দিকে একটি কিউবিকলে বসানো হয়েছে, যেখানে পূর্বে অস্থায়ী প্যানট্রি ছিল। চলন্ত ট্রেনে যাত্রীদের নিরাপদে এবং সহজে এটিএম ব্যবহারের জন্য কিউবিকলে শাটার দরজা লাগানো হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য কিউবিকলটি সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারির আওতায় রয়েছে। কোচের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন মানমাড় রেলওয়ে ওয়ার্কশপে সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে এটিএমের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ এবং কাঠামোগত সমন্বয় করা হয়েছে।
পঞ্চবটী এক্সপ্রেস (ট্রেন নম্বর ১২১০৯/১২১১০) মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস (সিএসএমটি) থেকে নাসিক জেলার মানমাড় জংশন পর্যন্ত প্রতিদিন চলাচল করে। ২৫৮ কিলোমিটারের এই যাত্রা ট্রেনটি প্রায় ৪ ঘণ্টা ৩৫ মিনিটে সম্পন্ন করে। ট্রেনটি মোট ২২টি কোচ নিয়ে চলে, যার মধ্যে ২টি এসি চেয়ার কার, ১২টি নন-এসি চেয়ার কার এবং ৬টি দ্বিতীয় শ্রেণির আনরিজার্ভড কোচ রয়েছে। সমস্ত কোচ ভেস্টিবিউল দ্বারা সংযুক্ত থাকায় যাত্রীরা সহজেই এটিএম কোচে পৌঁছাতে পারবেন। সুবিধাজনক সময়সূচির কারণে এই ট্রেনটি আন্তঃনগর যাত্রীদের, বিশেষত নিত্যযাত্রী, ব্যবসায়ী, আইনজীবী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) পঞ্চবটী এক্সপ্রেসে এটিএমের প্রথম পরীক্ষামূলক চালানো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে, ইগতপুরী এবং কাসারার মধ্যবর্তী এলাকায়, যেখানে টানেল এবং দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্কের কারণে সংকেত বিঘ্নিত হয়, এটিএম সাময়িকভাবে নেটওয়ার্ক হারিয়েছে। ভুসাওয়াল ডিভিশনের রেলওয়ে ম্যানেজার ইতি পান্ডে বলেন, “পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক। আমরা এটিএমের কার্যকারিতা আরও পর্যবেক্ষণ করব।”
এই এটিএম সুবিধা পঞ্চবটী এক্সপ্রেসের সঙ্গে রেক শেয়ার করা মুম্বই-হিঙ্গোলি জনশতাব্দী এক্সপ্রেসের যাত্রীদের জন্যও উপলব্ধ হবে। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এই পাইলট প্রকল্প সফল হলে, সেন্ট্রাল রেলওয়ে এবং পরবর্তীতে ভারতীয় রেলের অন্যান্য জোনে ধাপে ধাপে এই সুবিধা প্রসারিত করা হবে।
যাত্রীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। যাত্রী সঞ্জয় ঝা বলেন, “এটি রেলওয়ের একটি চমৎকার উদ্যোগ। চলন্ত ট্রেনে নগদ টাকা তোলা, চেকবুক অর্ডার করা বা স্টেটমেন্ট দেখার সুবিধা খুবই উপকারী হবে।” সামাজিক মাধ্যমে এই উদ্যোগের প্রশংসা করে অনেকে লিখেছেন, “ওয়াহ! এটি যাত্রীদের জন্য একটি দুর্দান্ত সুবিধা।”
সেন্ট্রাল রেলওয়ের এই উদ্যোগ যাত্রী সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি অ-ভাড়া রাজস্ব বাড়ানোর একটি উদাহরণ। ভুসাওয়াল ডিভিশনের আয়োজিত উদ্ভাবনী নন-ফেয়ার রেভিনিউ কাস্টমার ইন্টারঅ্যাকশন মিটিংয়ে এই ধারণাটি প্রথম প্রস্তাবিত হয়েছিল। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এটিএম সার্ভিস জনপ্রিয় হলে, ভবিষ্যতে আরও ট্রেনে এই সুবিধা চালু করা হতে পারে।
এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগ ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণ এবং যাত্রীকেন্দ্রিক সেবার দিকে আরও একটি পদক্ষেপ। পঞ্চবটী এক্সপ্রেসে এটিএম সুবিধার সাফল্য অন্যান্য রেল জোনের জন্য একটি নজির স্থাপন করতে পারে, যা ভবিষ্যতে ভারতের রেল ভ্রমণকে আরও সুবিধাজনক এবং আধুনিক করে তুলবে।