রেলযাত্রীদের জন্য সুখবর! মাত্র ১৫ টাকাতেই ভরপেট খাবার, কোথায় মিলবে ‘জনতা মিল’?

রেলযাত্রীদের জন্য সুখবর! আবারও চালু হল শিয়ালদহ স্টেশনের জনপ্রিয় ও স্বল্পমূল্যের ক্যান্টিন পরিষেবা—‘জনতা মিল’। দীর্ঘ বিরতির পর এবার নতুন রূপে, নতুন ব্যবস্থাপনায় ফিরল ‘জন আহার’, যা সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত ‘জনতা মিল’ নামে।
এবার মাত্র ১৫ টাকার বিনিময়ে মিলবে সাত পিস গরম কচুরি, ১৫০ গ্রাম আলু-সব্জি এবং একটু আচার। স্বাদ, পুষ্টি আর সাশ্রয়—সব কিছু একসঙ্গে দিতে এই উদ্যোগ রেলের।
শিয়ালদহ স্টেশন প্রতিদিন ১৫-১৮ লক্ষ যাত্রীর চাপ সামলায়, যাঁদের মধ্যে অনেকেই নিম্ন বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির। যাত্রাপথে হালকা খিদে মেটাতে, বাইরে দামি খাবারের বিকল্প হিসেবে এই ক্যান্টিন বহু আগে থেকেই জনপ্রিয় ছিল।
তবে কিছু বছর আগে খাবারের গুণগত মান নিয়ে অভিযোগ ওঠায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এই পরিষেবা। এবার নতুন করে শুরু হওয়ার পরেই দেখা গিয়েছে উপচে পড়া ভিড়।
শিয়ালদহ ডিভিশনের সিনিয়র ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার যশরাম মিনা জানিয়েছেন, “এবার থেকে নিয়মিত খাবারের মানের উপর নজর রাখা হবে। মান বজায় না থাকলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কেন কচুরি বেছে নেওয়া হলো এই কম্বো মেনুর জন্য? রেলের এক আধিকারিক জানান, “বাঙালি-অবাঙালি নির্বিশেষে কচুরি সবার প্রিয়। অল্প দামে পেট ভরে খাওয়ার জন্য কচুরি, আলু-সব্জিই সবচেয়ে উপযুক্ত।”
যাঁরা নিরামিষ খান, তাঁদের কথাও ভাবা হয়েছে। নিরামিষ ও আমিষ খাদ্যের জন্য আলাদা বাসনের ব্যবস্থা রয়েছে ক্যান্টিনে। প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিন নিরামিষ খাবার রাখার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
শুধু কচুরি-তরকারিই নয়, রেলের তরফে জানানো হয়েছে, এই ক্যান্টিনে মিলবে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতীয় খাবারও, যেমন বিরিয়ানি, উপমা, ইডলি-ডোসা ইত্যাদি—সবই বাজারের তুলনায় অনেক কম দামে।
এক রেলযাত্রীর কথায়, “আজকের দিনে ১৫ টাকায় এমন খাওয়া সত্যিই অসম্ভব। স্টেশনে এই ব্যবস্থা হওয়ায় আমরা অনেকটাই স্বস্তিতে।”শিয়ালদহ স্টেশনের মেন সেকশন থেকে সাউথ সেকশনের দিকে যাওয়ার পথে এই ক্যান্টিন স্থাপন করা হয়েছে।এই উদ্যোগ রেলযাত্রীদের আর্থিক সুরক্ষা তো দিচ্ছেই, পাশাপাশি ট্রেনযাত্রার ক্লান্তির মাঝেও একটু স্বস্তির স্বাদ এনে দিচ্ছে।