দ্বিতীয় বিয়ের জন্য ছেলেকে ‘বন্ধক’ রাখলেন বাবা! রাজস্থানে চাঞ্চল্যকর ঘটনা

এক হৃদয়বিদারক এবং চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে রাজস্থানের উদয়পুর জেলা থেকে। সেখানে এক বাবা তাঁর দ্বিতীয় বিবাহের খরচ জোগাড় করতে নিজের ৯ বছর বয়সী ছেলেকে এক ব্যবসায়ীর কাছে ‘বন্ধক’ রেখে দেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, উদয়পুরের আমবাদেহ এলাকার কোটাডা গ্রামের বাসিন্দা মিরখা নামের ওই ব্যক্তি ইতিমধ্যেই বিবাহিত। কিন্তু প্রথম স্ত্রীর থাকা সত্ত্বেও তিনি অন্য এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং একসঙ্গে বসবাস করতে শুরু করেন। গ্রাম পঞ্চায়েত বিষয়টি জানার পর মিরখাকে ওই মহিলাকে বিয়ে করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

স্থানীয় রীতি অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিবাহের ক্ষেত্রে বরপক্ষকে ‘দাপা’ নামক একপ্রকার কর দিতে হয়, যার পরিমাণ ছিল ৪৫ হাজার টাকা। এই অর্থের জোগান দিতে না পেরে মিরখা তার নিজের শিশুপুত্রকে গুজরাটের ইদার জেলার এক ব্যবসায়ীর কাছে ‘বন্ধক’ রেখে দেন।

এই ঘটনা ঘটেছিল প্রায় ১০ মাস আগে। জানা গিয়েছে, শিশুটিকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করানো বা কথাও বলার সুযোগ দেওয়া হতো না। মাঝে মাঝে শুধুমাত্র ফোনে কথা বলার অনুমতি মিলত।
ঘটনাটি জানার পর উদয়পুরের রেলওয়ে ট্রেনিং গভর্নমেন্ট হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষক দুর্গারাম মুয়াল সামনে আসেন। বিষয়টি জানার পর তিনি নিজেই খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, শিশুটি রয়েছে গুজরাটের ইদা শহরে। প্রথমে ভুল ঠিকানা দেওয়া হলেও, সহকর্মী কুণাল চৌধুরির সহযোগিতায় ওই ব্যবসায়ীর বাড়ি চিহ্নিত করেন তাঁরা।

সেখান থেকেই কেবল ওই শিশুকে নয়, আরও বেশ কয়েকজন শিশুকে উদ্ধার করেন তাঁরা। এই দুঃসাহসিক এবং মানবিক প্রচেষ্টার জন্য দুর্গারাম এবং কুণালকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। শিশুটিকে বর্তমানে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছে এবং মিরখার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।