“‘হিন্দু শূন্য’ হওয়ার ‘ষড়যন্ত্র'”-দেখছেন দিলীপ ঘোষ, রাজ্যের হিংসা পরিস্থিতি নিয়ে খুললেন মুখ

ওয়াকফ আইন বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তৈরি হওয়া উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বাংলা নববর্ষের সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি রাজ্যে ‘বিরাট ষড়যন্ত্র’ চলছে বলে দাবি করেন।
দিলীপ ঘোষ বলেন, “সীমান্তের জেলাগুলি হিন্দু শূন্য হয়ে আসছে। হিংসা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। হিন্দুরা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। এটা কি ইজরায়েল-সিরিয়া হয়ে গেল নাকি? সেদিকেই নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।” রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
একধাপ এগিয়ে দিলীপ ঘোষ আরও দাবি করেন, “অনেকদিন ধরেই বলছি বাংলাকে বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা চলছে। এখন বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তা না হলে পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলা হিন্দু শূন্য হয়ে যাবে।” ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনাগুলিকে তিনি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ বলে ইঙ্গিত দেন।
উল্লেখ্য, ওয়াকফ বিল সংসদে আইনে পরিণত হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ দেখা যাচ্ছে, যার মধ্যে মুর্শিদাবাদ সহ সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে উত্তেজনা তুলনামূলকভাবে বেশি। বিজেপির পক্ষ থেকে শুরু থেকেই এই আইনের বিরোধিতা করা হচ্ছে এবং রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য সেই বিরোধিতাকে আরও তীব্র করে তুলল।
তবে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপির এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলেছেন যে, রাজ্যে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই এবং মানুষ স্বাভাবিকভাবেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাচ্ছে।
দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে এবং ওয়াকফ বিরোধী আন্দোলন আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, রাজ্য সরকার এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয়।