ওয়াকফ-বিক্ষোভে জ্বলছে মুর্শিদাবাদ! পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামল কেন্দ্রীয় বাহিনী’, মৃত্যু তিনজনের…

মুর্শিদাবাদে ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে বিক্ষোভ ক্রমশ হিংসাত্মক রূপ নিচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অবশেষে নামানো হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে ‘রাজধর্ম’ পালনের কথা স্মরণ করিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে আদালত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করারও নির্দেশ দিয়েছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার তড়িঘড়ি সামশেরগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। ধুলিয়ান, সুতি এবং সামশেরগঞ্জে পুলিশের রুটমার্চ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এবং বিএসএফ যৌথভাবে টহলদারি চালাচ্ছে।

অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিতে থানায় গিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ও বিধায়করা। ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, বিক্ষোভকারীরা তাঁকে হেনস্থা করেছে এবং তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে। এছাড়াও, তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমানকেও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে। গতকাল তাঁরা থানায় পৌঁছে নিজেদের অভিযোগ জানান।

এ প্রসঙ্গে জঙ্গিপুরের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ খলিলুর রহমান বলেন, “গতকালের এই ঘটনায় আমি খুবই মর্মাহত। আমি খুবই আহত হয়েছি যা কাম্য ছিল না। আমরা কখনো আশা করিনি…আমি আমার এই ৬৫ বছর বয়সে এটা কখনো দেখিনি, শুনিনি। কিন্তু, এটা দেখলাম। কী দেখলাম? নেতৃত্ববিহীন এবং ব্যানারবিহীন একটা দল, কয়েক হাজার ছেলে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। যারা ওয়াকফ সম্পর্কে বোঝেই না। ওয়াকফ কী জিনিস তারা বোঝেই না। তারপরেও তারা যে প্রতিবাদ করেছে… আমি সেই সময় পার্টির কিছু কর্মসূচির জন্য জঙ্গিপুর যাচ্ছিলাম। গাড়ি থেকে নেমে আমি প্রত্যেকের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করি, আপনারা ফিরে যান। কিন্তু, তারা উল্টো আমাকে গালিগালাজ শুরু করল। পুলিশ সরিয়ে দেওয়ার পরে আমি আবার এগিয়ে গেলাম সাজুর মোড়ে। সেখানেও আমার গাড়িতে হামলা হয়। মনে হচ্ছে, আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নেবে। সেখানেও পুলিশ আমাকে বের করে দেয়। তাদের কী যে উদ্দেশ্য তা পুলিশের লোকও বুঝতে পারেনি, আমরাও বুঝতে পারছি না।”

মুর্শিদাবাদের ওয়াকফ-অশান্তি ক্রমশ অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠছে। সামশেরগঞ্জে বাড়ি থেকে বের করে বাবা ও ছেলেকে কুপিয়ে খুন করার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। প্রাণ গিয়েছে সুতিতে গুলিবিদ্ধ এক কিশোরের। এছাড়াও, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আরও দুই কিশোর সহ মোট তিনজন আহত হয়েছেন। সুতি ও সামশেরগঞ্জে পুলিশের রুটমার্চ এবং বিএসএফের টহলদারি জারি থাকলেও, বিভিন্ন জায়গায় এখনও অশান্তি ও হিংসার ঘটনা ঘটছে। দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আতঙ্কে ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সুতি ও সামশেরগঞ্জের এই অশান্তির ঘটনায় ইতিমধ্যেই শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে শুক্রবার থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের সুতি ও ধুলিয়ান এলাকা। সুতির সাজুরহাটে একের পর এক সরকারি বাস, গাড়ি ও মোটর বাইকে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সও রেহাই পায়নি। ট্রাফিক গার্ড ও পুলিশ কিয়স্কেও ব্যাপক তাণ্ডব ও ভাঙচুর চালানো হয়। একই চিত্র দেখা যায় সামশেরগঞ্জের ট্রাফিক গার্ডেও। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে পুলিশ পিছু হটতে বাধ্য হয়। কিয়স্কের ভেতরের সমস্ত আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ভেঙে খান খান করে দেওয়া হয় রেলগেট এবং গেটম্যানের অফিসে চলে দেদার ভাঙচুর। একের পর এক দোকানেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।