বেসরকারি হাসপাতালে কাজ দেওয়ার নামে ‘কিডনি পাচার’, বারুইপুরে ধুন্ধুমার, আটক ২

কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে উত্তরপ্রদেশে নিয়ে গিয়ে ভয় দেখিয়ে এক ব্যক্তির কিডনি শরীর থেকে বের করে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বারুইপুর থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই দুজনকে আটক করে তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার, ১১ এপ্রিল দুপুরে বারুইপুর বিডিও অফিসের সামনে দুই ব্যক্তির মধ্যে বচসা ও হাতাহাতি শুরু হয়। স্থানীয়রা বারুইপুর থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দুজনকে আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে শামসুদ্দিন লস্কর বারুইপুর থানার হিমচি এলাকার বাসিন্দা।

শামসুদ্দিনের অভিযোগ, প্রায় তিন মাস আগে তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে কাজ দেওয়ার নাম করে উত্তরপ্রদেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে একটি হোটেলে তাঁকে আটকে রাখা হয় এবং তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। তাঁর আরও অভিযোগ, জোরপূর্বক তাঁকে কিডনি দিতে বাধ্য করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তাঁর একটি কিডনি অস্ত্রোপচার করে বের করে নেওয়া হয়। এই কিডনি দেওয়ার বিনিময়ে তাঁকে ৭ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু অভিযুক্তরা তাঁর অ্যাকাউন্টে মাত্র দুই লক্ষ টাকা পাঠায়।

এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হুগলি জেলার বাসিন্দা শুভ ভট্টাচার্যকে আটক করেছে শামসুদ্দিন লস্করের পরিজনরা। জানা গিয়েছে, শুভ বৃহস্পতিবার বারুইপুর বিডিও অফিসে এসেছিলেন। সেখানেই শামসুদ্দিনের পরিবারের লোকজন তাঁকে ধরে ফেলেন। স্থানীয়রা দুজনের মধ্যে গন্ডগোল দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ উভয়কেই আটক করে।

পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে মনে করছে, এই ঘটনার পিছনে একটি বৃহত্তর কিডনি পাচার চক্রের যোগ থাকতে পারে। যদিও আটক শুভ ভট্টাচার্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পুলিশ ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।