পরিবারেও ভাঙ্গন! ‘নেহা-টোনির’ সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন বোন সোনু, কেন এই সিদ্ধান্ত?

সম্পর্কের বিচ্ছেদ আজকাল যেন জলভাত। বিনোদন জগতে সম্পর্ক ভাঙা-গড়ার খেলা লেগেই থাকে। তবে এবার যা ঘটল, তা যেন আরও একধাপ এগিয়ে। ভাই-বোনের মতো রক্তের সম্পর্কের বাঁধনও ছিঁড়ে ফেলার ‘ট্রেন্ড’ শুরু হয়েছে কি? সম্প্রতি এমনই একটি ইঙ্গিত দিলেন জনপ্রিয় গায়িকা সোনু কক্কর, যিনি নেহা কক্কর ও টনি কক্করের বোন।

সোনু কক্কর তাঁর সামাজিক মাধ্যমের পাতায় একটি বিস্ফোরক পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ভাঙা মন নিয়ে আমি আপনাদের জানাচ্ছি যে, আমি আর সেই অতি গুণী নেহা কক্কর ও টনি কক্করের বোন নই। আমার এই সিদ্ধান্ত এসেছে মনের অনেক বড় বেদনা থেকে। আমি আজ সত্যিই ভেঙে পড়েছি!’

সোনু কক্কর কোক স্টুডিওতে বিশাল দাদলানির সাথে ‘মাদারি’ গানে কণ্ঠ মিলিয়ে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। পাশাপাশি, বোন নেহা কক্করের সঙ্গেও তিনি বেশ কয়েকটি গান গেয়েছেন। শুধু তাই নয়, বেশ কিছু জনপ্রিয় রিয়েলিটি শোয়ের বিচারকের আসনেও দেখা গিয়েছে তাঁকে।

অথচ, কিছুদিন আগেও এই তিন ভাই-বোনের মধ্যেকার মধুর সম্পর্কের ঝলক দেখা গিয়েছে বিভিন্ন আড্ডা ও সাক্ষাৎকারে। যখনই তাঁরা একসঙ্গে হয়েছেন, পুরনো দিনের স্মৃতিচারণা করেছেন। সেই সুন্দর মুহূর্তগুলি অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে। বহুবার সংবাদমাধ্যমে কথা বলার সময়ও তাঁরা একে অপরের প্রতি গভীর মানসিক নির্ভরতার কথা জানিয়েছেন।

ঠিক সেই পরিস্থিতিতে সোনু কক্করের এই আকস্মিক পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর চর্চা শুরু করে দিয়েছে। এই ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে গায়ক আরমান মালিকের ভাই আমাল মালিকের একটি পোস্টের কথা। যেখানে তিনি তাঁর বাবা-মা ডাবু মালিক ও জ্যোতি মালিকের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। যদিও পরে সেই পোস্টটি তিনি মুছে ফেলেন।

ঠিক একই ঘটনা ঘটল সোনু কক্করের ক্ষেত্রেও। শনিবার রাত পেরোতেই তিনি তাঁর বিতর্কিত পোস্টটি সরিয়ে ফেলেছেন। তবে পোস্টটি সরিয়ে ফেললেও, তাঁর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই বহু মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। কী এমন ঘটল যে রক্তের সম্পর্কের মধ্যেও এত বড় ফাটল ধরল? কেন সোনু কক্কর এমন বেদনাদায়ক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন? যদিও এই বিষয়ে নেহা কক্কর বা টনি কক্করের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সোনুর এই পোস্ট বিনোদন জগতে সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে নতুন করে জল্পনা উস্কে দিল। এখন দেখার, এই পারিবারিক ভাঙনের আসল কারণ কবে সামনে আসে।