Weather: বাংলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস জেলায় জেলায়, রয়েছে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস

চৈত্র মাসের শেষ দিনে রাজ্যের অসহ্য গরম থেকে অবশেষে মুক্তি মিলতে চলেছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আপাতত রাজ্যে আর কোনও তাপপ্রবাহের সতর্কতা নেই। গরমের অনুভূতি থাকলেও তা আগের মতো তীব্র হবে না। এই আকস্মিক পরিবর্তনের কারণ হিসেবে একটি ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টিকে দায়ী করেছে হাওয়া অফিস। এই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সকল জেলাতেই ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং বীরভূমের মতো জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দমকা হাওয়াও বইতে পারে। একই চিত্র দেখা যেতে পারে উত্তরবঙ্গেও। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহেও ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, রবিবার ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু করে আগামী ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা বজায় থাকবে। এই সময় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। কিছু কিছু এলাকায় এই গতিবেগ ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এমনকি, কিছু স্থানে সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্তও হতে পারে।

উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং উত্তর দিনাজপুরের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইবে, যা কিছু এলাকায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্তও পৌঁছাতে পারে।

তাপমাত্রার পূর্বাভাসে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী চার দিন তাপমাত্রা প্রায় একই রকম থাকবে। উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রেও আগামী চার দিনে তাপমাত্রার তেমন কোনও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হবে না।

স্পষ্টতই, চলতি সপ্তাহে আগত ঝড়বৃষ্টি রাজ্যবাসীর জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বস্তি বয়ে আনবে। তবে আবহাওয়া দফতর বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝড়ের সময় সকলকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। এই অপ্রত্যাশিত বৃষ্টি এবং ঠান্ডা আবহাওয়া চৈত্র মাসের তীব্র গরমের দহন থেকে রাজ্যবাসীকে কিছুটা হলেও শান্তি দেবে, এমনটাই আশা করা যাচ্ছে।