হনুমান জয়ন্তীর মিছিলে কী কী করা যাবে না?-জেনেনিন হাইকোর্ট যা যা নির্দেশ দিলো?

রাজ্য জুড়ে হনুমান জয়ন্তী উদযাপনের আবহে মিছিলের অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এই সংক্রান্ত তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করেছিলেন উদ্যোক্তারা। বৃহস্পতিবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ শর্তসাপেক্ষে মিছিল করার অনুমতি প্রদান করেন। তবে রায়ে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, শোভাযাত্রায় কোনও প্রকার ধাতব অস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।
হনুমান জন্মোৎসব উদযাপন সমিতি মিছিলের অনুমোদনের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। বৃহস্পতিবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে এই তিনটি মামলার শুনানি হয়। প্রথম মামলায় আগামী ১২ই এপ্রিল হনুমান জয়ন্তীর মিছিলের অনুমতি দেন বিচারপতি।
হনুমান জয়ন্তীর মিছিলে হাইকোর্টের নির্দেশ:
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মিছিলটি কলেজ স্ট্রিট হনুমান মন্দির থেকে শুরু হয়ে হরি ঘোষ হনুমান মন্দির পর্যন্ত যাবে।
- শোভাযাত্রাটি আগামী ১২ই এপ্রিল বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে অনুষ্ঠিত করা যাবে।
- মিছিলে কোনও ডিজে ব্যবহার করা যাবে না।
- কোনও প্রকার ধাতব অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। তবে পিভিসি (PVC) দিয়ে তৈরি প্রতীকী অস্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে।
- সর্বোচ্চ ৫টি মাইক্রোফোন ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে আদালত।
- শোভাযাত্রায় ৪টি করে বাইক এবং গাড়ি ব্যবহার করা যাবে বলে বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন।
- মিছিলে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ২০০ থেকে ২৫০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। জানা গিয়েছে, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ওই শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পারেন।
অন্য দুটি মামলার শুনানিতে, বাঁশদ্রোণীর সতীন্দ্রপল্লিতে হনুমান মন্দিরে পুজোর কর্মসূচির অনুমতি দিয়েছে হাইকোর্ট। তবে এক্ষেত্রে পুরসভার অনুমতি নিয়ে কর্মসূচি পালন করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি, রাত ১০টার মধ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় মামলাটি ছিল বাঁশদ্রোণী এলাকার শিশুভারতী মাঠের কাছে হনুমান জয়ন্তী উদযাপন সংক্রান্ত। এই কর্মসূচির জন্য শুক্রবার থেকে আগামী ১৩ই এপ্রিল পর্যন্ত অনুমতি দিয়েছে হাইকোর্ট।
আদালতের এই নির্দেশের ফলে হনুমান জয়ন্তী উদযাপন সমিতি এবং ভক্তদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে আদালতের আরোপিত শর্তাবলী মেনেই শোভাযাত্রা ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।