‘নিজ থেকেই চলতে’ পারে তারবিহীন এই বায়োনিক হাত, বিজ্ঞানীদের অবাক করা আবিষ্কার!

বিশ্বে প্রথমবারের মতো তারবিহীন বায়োনিক বাহু উন্মোচন করে সাড়া ফেলেছে যুক্তরাজ্যের একটি স্টার্টআপ ‘ওপেন বায়োনিক্স’। সংস্থাটির দাবি, এই অত্যাধুনিক কৃত্রিম অঙ্গটি ব্যবহারকারীর শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও কাজ করতে সক্ষম।

ব্রিস্টল-ভিত্তিক এই স্টার্টআপ তাদের সর্বশেষ ‘হিরো’ নামের বায়োনিক বাহুটি তৈরি করতে দীর্ঘ চার বছর সময় নিয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট। ওপেন বায়োনিক্স এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত রোবোটিক অঙ্গ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

সংস্থাটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও সামান্থা পেইন এই উদ্ভাবন সম্পর্কে বলেন, “এটি প্রচলিত বায়োনিক হাতের তুলনায় দ্বিগুণ দ্রুত ও শক্তিশালী এবং একইসঙ্গে এটিই সবচেয়ে হালকা বাহু। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটিই বিশ্বের প্রথম বায়োনিক বাহু, যা সম্পূর্ণরূপে পানিরোধী ও তারবিহীন।” তিনি আরও বলেন, “এই আবিষ্কার কৃত্রিম অঙ্গ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক বিশাল পদক্ষেপ এবং চিকিৎসা খাত ও রোগীদের মধ্যে এই বাহু নিয়ে আগ্রহ দেখার জন্য আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। এটি যেন বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর বাস্তব রূপ।”

গবেষকরা এই ডিভাইসে ‘মায়োপডস’ নামের অত্যাধুনিক তারবিহীন ‘ইএমজি’ ইলেকট্রোড ব্যবহার করেছেন। ইএমজি ইলেকট্রোড মূলত অঙ্গবিহীন ব্যক্তির দেহের ওপর স্থাপন করে তাদের পেশী সংকেত পড়ে। এই সংকেতগুলোকে পরবর্তীতে বায়োনিক হাতের বিভিন্ন আঙ্গুল নড়াচড়ার জন্য নির্দেশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তারবিহীন হওয়ায় এই নতুন বাহুটির সংযোগের জটিলতা কমেছে এবং ব্যবহারকারী আরও সহজে এটি ব্যবহার করতে পারবেন।

১৯ বছর বয়সী টিলি লোকি ছোটবেলায় মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে তার দুটি হাতই হারিয়েছিলেন। গত নয় বছর ধরে তিনি ওপেন বায়োনিক্সের তৈরি বায়োনিক বাহু ব্যবহার করছেন এবং স্টার্টআপটির এই সর্বশেষ বাহুটি তৈরিতেও তিনি সহায়তা করেছেন। টিলি এই নতুন উদ্ভাবনকে কার্যকারিতা ও প্রযুক্তির দিক থেকে ‘তুলনাহীন’ বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেন, “আমি জানতাম নতুন প্রযুক্তিটি ভালো হবে। তবে এর উন্নয়নের ব্যাপকতা দেখে আমি এতটা বিস্মিত হব, তা আশা করিনি।” টিলি আরও জানান, “এই বাহুগুলো অনেক বেশি শক্তিশালী। বায়োনিক হাতটিকে খুলে টেবিলের ওপর রাখার পরও এটি আমার সকেটে থাকা তারবিহীন সেন্সরের মাধ্যমে হামাগুড়ি দিয়ে চলতে পারে। এর ফলে আমি দূর থেকেও এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না, এই প্রযুক্তি কতটা অসাধারণ।”

২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করার পর থেকে ওপেন বায়োনিক্স এক হাজারের বেশি ব্যবহারকারীর কাছে তাদের উন্নত কৃত্রিম অঙ্গের সেবা পৌঁছে দিয়েছে। কাস্টম বায়োনিক বাহু সরবরাহ করতে স্টার্টআপটি থ্রিডি স্ক্যানিং ও থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে, যা প্রতিটি ব্যবহারকারীর শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী কৃত্রিম অঙ্গ তৈরি করতে সহায়ক। তারবিহীন এই নতুন ‘হিরো’ বাহু কৃত্রিম অঙ্গ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।