নববর্ষে রাজ্যজুড়ে খাবারের মহোৎসব, কবজি ডুবিয়ে খাওয়ার বন্দোবস্ত থাকবে সমস্ত স্টলে

বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ আর কয়েক দিন পরেই। বসন্তের রুক্ষতা কাটিয়ে প্রকৃতি যখন নতুন করে সেজে উঠছে, তখন উৎসবের আমেজ রাজ্যজুড়ে। পয়লা বৈশাখকে কেন্দ্র করে যখন চারিদিকে সাজসাজ রব, তখন সেই আনন্দকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পর্যটন দফতর আয়োজন করেছে চারদিনব্যাপী এক বিশেষ খাদ্য উৎসব – ‘বাংলার খাবার’।
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন, অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ (১২ই এপ্রিল) থেকে শুরু হয়ে ১৫ই এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই খাদ্য উৎসব। রাজ্যের প্রাচীন ও ঐতিহ্যপূর্ণ খাদ্য সংস্কৃতিকে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের সামনে তুলে ধরাই এই উৎসবের মূল লক্ষ্য। একইসঙ্গে, ক্ষুদ্র ও স্থানীয় খাদ্য ব্যবসায়ীদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ, যেখানে তাঁরা তাঁদের বিশেষ পদের প্রচার ও বিক্রি করতে পারবেন।
গোটা রাজ্যেই বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। দার্জিলিং জেলার এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, নববর্ষে বাঙালির ঐতিহ্য ও ভূরিভোজের স্বাদ দিতে এই প্রথমবার দফতরের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগ্রহী ভোজনরসিকদের জন্য থাকছে আগাম বুকিংয়ের ব্যবস্থাও। এই আয়োজন সকলের মন জয় করবে বলে তাঁরা আশাবাদী।
কবে থেকে শুরু ওই উৎসব?
তারিখঃ ১২ থেকে ১৫ এপ্রিল
স্থানঃ মৈনাক ট্যুরিস্ট লজ, শিলিগুড়ি এবং অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রের সরকারি আবাসনগুলি।
সময়: প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত
কী থাকছে এই উৎসবে?
এই উৎসবে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের ঐতিহ্যবাহী ও প্রায় হারিয়ে যাওয়া নানান খাবারের সম্ভার থাকবে। মেনুতে থাকছে পান্তা ইলিশ, খিচুড়ি ও বেগুন ভাজা, বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু পিঠা যেমন চিতই পিঠা, পাটিসাপটা, ভাপা পিঠা। আমিষ পদের মধ্যে থাকছে মুরগির ঝাল ঝোল, কষা মাংস, চিংড়ি মালাইকারি, এবং হরেক রকমের ভর্তা ও শুঁটকি ভুনা। হালকা মুখরোচক খাবারের মধ্যে থাকছে চাল ভাজা। মিষ্টিমুখের জন্য রসগোল্লা, সন্দেশ, চমচম, মিষ্টি দই তো অবশ্যই থাকছে। এছাড়াও, মেনুতে যোগ হয়েছে শরীর জুড়ানো আমপানার শরবত, লুচি, ছোলার ডাল, বড়ি দিয়ে শুক্তো, এঁচোড়, বিভিন্ন প্রকার মাছ ও মাংসের পদ, জল ভরা তালশাঁস, পায়েস এবং রাবরি। ১২ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলা এই অনুষ্ঠানে আমিষ ও নিরামিষ উভয় প্রকার খাবারের স্বাদ নিতে পারবেন সকলে।
আদিবাসী এলাকার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বনভোজন-ভিত্তিক দেশি খাবার, যেমন হাঁসের মাংস ও কাঁকড়ার ঝোল।
টিকিট ও প্রবেশ:
এই খাদ্য উৎসবে প্রবেশ মূলত বিনামূল্যে। তবে কিছু বিশেষ খাবারের স্টলে মূল্য ধার্য করা থাকবে। পরিবার নিয়ে আসার জন্য উৎসব প্রাঙ্গণে মনোরম পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বাংলা নববর্ষের এই আনন্দঘন মুহূর্তে ‘বাংলার খাবার’ খাদ্য উৎসব নিঃসন্দেহে খাদ্যপ্রেমী বাঙালি ও পর্যটকদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। সকলের জন্য রইল আন্তরিক আমন্ত্রণ।