ঠাকুরপুকুর হিট অ্যান্ড রান কেস: ‘আমি গাড়িতে ছিলাম না’, দাবি ইউটিউবার স্যান্ডি সাহার

রামনবমীর দিন ঠাকুরপুকুরে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক হিট অ্যান্ড রান কেস নিয়ে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। ইউটিউবার স্যান্ডি সাহা এবং অভিনেতা আরিয়ান ভৌমিক দাবি করেছেন, দুর্ঘটনার সময় তারা গাড়িতে ছিলেন না। অন্যদিকে, অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেন (ঋ) এবং প্রযোজক শ্রিয়া বসুর উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ায় টলিপাড়ায় চলছে তোলপাড়।

ঘটনার বিবরণ
রবিবার সকালে দক্ষিণ কলকাতার ঠাকুরপুকুর বাজারে একটি গাড়ি বেপরোয়া গতিতে ঢুকে পরপর কয়েকটি দুই চাকার যানবাহনে ধাক্কা মারে। এই ঘটনায় একজন পথচারী নিহত এবং ৬ জন গুরুতর আহত হন। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন বাংলা ধারাবাহিকের পরিচালক সিদ্ধান্ত দাস (ভিক্টো)। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল, গাড়িতে আরও ছিলেন সান বাংলার প্রযোজক শ্রিয়া বসু, অভিনেতা আরিয়ান ভৌমিক, ঋতুপর্ণা সেন এবং ইউটিউবার স্যান্ডি সাহা।

কে ছিল, কে ছিল না?
ইউটিউবার স্যান্ডি সাহা রবিবার রাতেই ফেসবুকে পোস্ট করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আমি গাড়িতে ছিলাম না।” একই দাবি করেছেন অভিনেতা আরিয়ান ভৌমিকও। একটি সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “দুর্ঘটনার সময় আমি এবং স্যান্ডি অন্য গাড়িতে ছিলাম। আমরা এই ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানতাম না, পরে খবর পাই।”

অন্যদিকে, অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেন স্বীকার করেছেন যে তিনি গাড়িতে ছিলেন, তবে তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন না এবং গাড়ি চালাননি। তিনি বলেন, “এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা। স্থানীয়রা আমাকে গাড়ি থেকে উদ্ধার করেন।”

মদ্যপান ও টলিপাড়ার কানেকশন
সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার আগের রাতে দক্ষিণ কলকাতার একটি অভিজাত পানশালায় মদ্যপান করেন ভিক্টো ও তাঁর সঙ্গীরা। এরপরই বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর সময় ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ভিক্টোকে গ্রেপ্তার করেছে এবং মদ্যপান পরীক্ষার রিপোর্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

টলিপাড়ায় প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় টলিপাড়া জুড়ে উত্তপ্ত বিতর্ক চলছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, টলিউডের কিছু ব্যক্তিত্বের রাতজাগা পার্টি এবং মদ্যপানের সংস্কৃতি বারবার এমন দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অন্যদিকে, ভিক্টো এবং তাঁর সহযাত্রীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

পুলিশের তদন্ত
পুলিশ এখন গাড়িতে কে কে ছিলেন এবং কে দায়ী, তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করছে। স্যান্ডি ও আরিয়ানের দাবি সত্য কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। এদিকে, নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও ভাবছে প্রশাসন।