২৬ হাজার চাকরি বাতিল: রাজ্যজুড়ে শোরগোল, পালটা কর্মসূচিতে তৃণমূল, কটাক্ষ শুভেন্দুর

প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই ইস্যুকে ইতিমধ্যেই হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছে বিজেপি। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা আয়োজন করছে তারা। এমনকি ‘কালীঘাট চলো’ কর্মসূচিও পালিত হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে পাল্টা ময়দানে নামার ঘোষণা করেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী ৯ এপ্রিল বিকেল ৩টে থেকে কলেজ স্কোয়ার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত চাকরি বাতিলের প্রতিবাদে ছাত্র ও যুবদের মিছিলের ডাক দিয়েছে তৃণমূল। দলের নেতা কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাকরি হারানো শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের পাশে থেকে তাঁদের মতো করে লড়াই চালাবেন। পাশাপাশি, এই ‘চক্রান্ত’ ও ‘ষড়যন্ত্রের’ বিরুদ্ধে তৃণমূলের ছাত্র ও যুব শাখা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাবে। রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যের প্রতিটি জেলা, ব্লক ও শহরেও একই দিনে ছাত্র-যুবদের মিছিল অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান।

তবে তৃণমূলের এই মিছিলের ডাককে তীব্র কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ৭ হাজার লোককে কার্ড দিয়েছেন। তার মানে উনি নিজেই ১৯ হাজার জনকে অযোগ্য বলছেন।” তৃণমূলের মিছিলের ঘোষণাকে ‘চোর मचाए शोर’-এর সঙ্গে তুলনা করে শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, “ঠিক যেভাবে অভয়াকান্ডে নিজে তথ্যপ্রমাণ লোপাট করে উই ওয়ান্ট জাস্টিসের ব্যানার নিয়ে হেঁটেছিলেন, এভাবেই মুভমেন্টে নামাতে চাইছেন। বাংলা সব দেখছে।”

শুভেন্দু অধিকারী আরও অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী সবকিছু জানেন। সুপ্রিম কোর্টে স্থগিতাদেশ পাওয়ার দিন তিনি ‘ভিকট্রি’ দেখিয়েছিলেন এবং অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জেলে যাবেন… ব্যাগ গোছান।”

উল্লেখ্য, ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের ঘটনায় শাসক দল কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে পড়েছে। এই ‘ক্ষয়ক্ষতি’ সামাল দিতেই তৃণমূল ফের রাস্তায় নামার উদ্যোগ নিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। অনেকেরই এই পরিস্থিতিতে মনে পড়ছে অতীতে আরজিকর মেডিক্যাল কলেজে জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের সময় তৃণমূল নেতাদের ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল করার কথা। সেই সময়ও দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠলে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করেছিল তৃণমূল। এবারও সেই একই ‘ফর্মুলা’ নিয়েছে তারা।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ৯ এপ্রিলের মিছিলে চাকরি হারানো শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের প্রতি সংহতি জানানো হবে এবং এই ‘অন্যায়ের’ বিরুদ্ধে সরব হওয়া হবে। এখন দেখার, তৃণমূলের এই পালটা কর্মসূচি রাজ্য politics-এর গতি কোন দিকে নিয়ে যায়।