শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে নদীয়ার স্কুল, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বন্ধ হচ্ছে বিজ্ঞান বিভাগ

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে রাজ্য জুড়ে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিলের প্রভাবে নদীয়ার বাদকুল্লা অঞ্জনগর হাইস্কুল এখন শিক্ষক সংকটে জেরবার। বিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষক ও এক শিক্ষাকর্মীর চাকরি চলে যাওয়ায় পুরো পরিকাঠামোই এখন ধসের মুখে। বন্ধ হতে চলেছে স্কুলের বিজ্ঞান ও কম্পিউটার বিভাগ।
বিদ্যালয়ের কী অবস্থা?
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, পাঁচ শিক্ষকের চাকরি যাওয়ায় বিজ্ঞান বিভাগ সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার পথে। রসায়ন বিভাগের একমাত্র শিক্ষক চাকরি হারানোর পর এই বিষয়ে আর ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কম্পিউটার বিভাগেও দু’জন শিক্ষকের মধ্যে একজনকে হারিয়েছে স্কুলটি। ফলে, এই বিভাগটিও এখন সংকটে।
গ্রুপ সি-র এক শিক্ষাকর্মীর চাকরি যাওয়ায় প্রশাসনিক কাজেও ব্যাঘাত ঘটছে। প্রধান শিক্ষকের কথায়, “গণিত ও রসায়ন বিভাগের ক্লাস এখন একেকজন শিক্ষক সামলাচ্ছেন। কিন্তু একজনের পক্ষে সব ক্লাস নেওয়া অসম্ভব।”
শিক্ষকদের আকুল আবেদন
চাকরিচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকারা সরকারের কাছে দ্রুত সমাধান চেয়েছেন। তাদের বক্তব্য, “আমরা যোগ্যতা অনুযায়ী নির্বাচিত হয়েছিলাম। হঠাৎ চাকরি হারানো মানে ভবিষ্যৎ অন্ধকার। সরকার যেন আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে।”
মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি
সোমবার চাকরিহারা শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশ্বাস দিয়েছেন, “যোগ্যদের নথি পরীক্ষা করে ন্যায়বিচার করা হবে। অযোগ্যদের তালিকায় যেন যোগ্যরা না পড়েন, সেদিকেও নজর দেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, “আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে চাকরি হারাতে চাই না।”
কী বলছে রাজনীতি?
বিরোধী দলগুলি এই নিয়ে সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, “টিএমসি সরকারের অনিয়মেই শিক্ষকরা চাকরি হারালেন।” অন্যদিকে, রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে চললেও দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছে বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি এখন কী?
বিদ্যালয়গুলিতে এখন হঠাৎ করেই শিক্ষক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গণিত ও বিজ্ঞান বিভাগে এই সংকট প্রকট। ছাত্রছাত্রীরা যেমন বিভ্রান্ত, তেমনই উদ্বিগ্ন অভিভাবকরাও। প্রশ্ন উঠছে, এই সংকট কাটবে কীভাবে?