‘মুখ্যমন্ত্রীই দিশা দেখাবেন,’ -চাকরিহারাদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক, রিভিউ পিটিশন দাখিলের দাবি

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারানো এসএসসি প্রার্থীদের সঙ্গে আজ নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠকে রাজ্য সরকারের চার মন্ত্রী—অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম, পুলক রায় এবং মানস ভুঁইয়াও উপস্থিত ছিলেন। চাকরিচ্যুত প্রার্থীরা তাঁদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
বৈঠকে চাকরিহারা প্রার্থীদের প্রধান দাবিগুলি ছিল নিম্নরূপ:
সুপ্রিম কোর্টে এই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন দাখিল করতে হবে এবং পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনও প্রার্থীকে বরখাস্তের চিঠি দেওয়া যাবে না।
আদালতের পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সকল যোগ্য প্রার্থীকে তাঁদের বর্তমান কর্মস্থলে বহাল রাখতে হবে, যা আদালত অবমাননার শামিল হবে না।
নতুন করে কোনও নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা যাবে না এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চিহ্নিত যোগ্য ও অযোগ্যদের তালিকা অনুযায়ী রিভিউ প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে হবে।
এই সংকট সমাধানে একটি সর্বদলীয় বৈঠকের আয়োজন করতে হবে এবং প্রার্থীদের আইনি লড়াইয়ের জন্য দক্ষ আইনজীবীর ব্যবস্থা করতে হবে।
বৈঠকে বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিও তাঁদের মতামত পেশ করেন। রানি রাসমনি গ্রিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অমিয় কুমার পণ্ডা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই কঠিন পরিস্থিতিতে সহানুভূতি দেখানোর আবেদন জানান। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আবুল বাশার বিচার ব্যবস্থার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে এটিকে একটি গভীর ষড়যন্ত্র এবং রাজনীতি-প্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন। কবি সুবোধ সরকার মুখ্যমন্ত্রীকে অভিভাবকের আসনে বসিয়ে বলেন যে, তিনিই এই সংকট থেকে উত্তরণের দিশা দেখাতে পারেন।
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর ফলস্বরূপ প্রায় ২৫,৭৬২ জন শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীর নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। আদালত রাজ্য সরকারকে তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে এবং পূর্বের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য বয়সসীমায় ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এই জটিল পরিস্থিতিতে, চাকরি হারানো প্রার্থীরা তাঁদের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে একাধিক আবেদন জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি তাঁদের পাশে রয়েছেন এবং এই সমস্যার সম্ভাব্য সমাধানের জন্য কাজ করছেন। এখন দেখার বিষয়, সরকার এই দাবিগুলির প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয় এবং চাকরিহারা প্রার্থীদের জন্য কোন পথে ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করে।