স্ত্রীকে খুনের দায়ে জেল খাটছিলেন স্বামী, হঠাৎ অন্য পুরুষের সঙ্গে দেখা গেল ‘মৃত’ নারী কে

সিনেমার গল্পকেও হার মানানো এক অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটল কর্নাটকের মাইসুরুতে। স্ত্রী খুনের দায়ে দীর্ঘদিন ধরে জেল খাটছিলেন এক ব্যক্তি। সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, তার স্ত্রী জীবিত এবং অন্য পুরুষের সঙ্গে সংসার করছেন! এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি মাইসুরুর কুশলনগর এলাকায় ঘটেছে। ঘটনার আকস্মিকতায় নেটিজেনরা তাপসী পান্নু ও বিক্রান্ত ম্যাসি অভিনীত জনপ্রিয় নেটফ্লিক্স সিনেমা ‘হাসিন দিলরুবা’-র সঙ্গে এর অদ্ভুত মিল খুঁজে পাচ্ছেন। কিন্তু কীভাবে ঘটল এমন অবিশ্বাস্য কাণ্ড? জীবিত স্ত্রীর খুনের দায়ে কেন জেল খাটতে হলো সুরেশকে?
পুলিশের একটি সামান্য ভুল সুরেশের জীবন কেড়ে নিয়েছিল। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে নিখোঁজ ছিলেন সুরেশের স্ত্রী মাল্লিগে। থানায় নিখোঁজের ডায়েরিও করেছিলেন সুরেশ নিজেই। বেশ কয়েক মাস ধরে খোঁজাখুঁজির পর বেত্তাদরাপুরা এলাকা থেকে উদ্ধার হয় একটি কঙ্কাল। আশ্চর্যজনকভাবে, কোনও রকম ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়াই পুলিশ সেই কঙ্কালটিকে সুরেশের নিখোঁজ স্ত্রী মাল্লিগের বলে শনাক্ত করে ফেলে। এরপরই স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় সুরেশকে। তার নামে চার্জশিটও দাখিল করা হয়। বছরখানেক ধরে নীরবে জেল খাটছিলেন সুরেশ।
তবে গত ১ এপ্রিল এই মামলার মোড় ঘুরে যায় নাটকীয়ভাবে। সুরেশের এক বন্ধু স্থানীয় একটি হোটেলে মাল্লিগে-কে দেখতে পান। মাল্লিগে তখন অন্য এক পুরুষের সঙ্গে বসে খাবার খাচ্ছিলেন। যে বন্ধু মাল্লিগে-কে দেখেছিলেন, তার নামও সুরেশের বিরুদ্ধে দাখিল করা চার্জশিটে উল্লেখ ছিল। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি বিষয়টি আদালতকে জানান।
অবশেষে আদালতে মাল্লিগে স্বীকার করেন যে তিনি স্বেচ্ছায় স্বামীকে ছেড়ে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন। সুরেশের বাড়ি থেকে মাত্র ২৫-৩০ কিলোমিটার দূরে শেট্টিহাল্লি নামক একটি গ্রামে তারা সংসার করছেন। নিজের নিখোঁজ হওয়ার একটি ভুয়ো গল্প সাজিয়েছিলেন তিনি, যাতে সহজেই ঘর ছেড়ে পালাতে পারেন।
পরবর্তীতে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালের ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে দেখা যায়, তার সঙ্গে মাল্লিগের কোনো জিনগত মিল নেই। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কেন সেই সময় কঙ্কালের ডিএনএ পরীক্ষা না করেই সেটিকে মাল্লিগের বলে শনাক্ত করেছিল পুলিশ? কেন সুরেশের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ এনে চার্জশিট দাখিল করা হলো? কোন তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে সুরেশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তা জানতে চেয়ে আদালত ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে। এই ঘটনায় পুলিশের তদন্তের গাফিলতি স্পষ্টতই ধরা পড়েছে, এবং একজন নির্দোষ ব্যক্তিকে দীর্ঘ সময় ধরে কারাভোগ করতে হওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।