“‘কালা আইন’ এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবো”-ওয়াকফ বিল ঠেকাতে মরিয়া পার্সোনাল ল’বোর্ড

লোকসভায় পেশ হওয়া ওয়াকফ সংশোধনী বিল ২০২৫-কে রুখতে মরিয়া অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড (AIMPLB)। বুধবার বোর্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে তারা এই বিলের বিরুদ্ধে আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ জানাবে এবং এই ‘কালা আইন’-এর বিরুদ্ধে তাদের লড়াই অব্যাহত রাখবে। এদিন লোকসভায় বিলটি নিয়ে আলোচনার জন্য পেশ করা হয়েছে।
বুধবার এই বিষয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড। বোর্ডের সদস্য মহম্মদ আদিব এই বিলটিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের সম্পত্তি দখলের একটি প্রচেষ্টা বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “তারা আমাদের সম্পত্তি কেড়ে নিতে পারবে ভেবে এই নাটক শুরু করেছে। এটা কি মেনে নেওয়া যেতে পারে? ভাববেন না যে আমরা পরাজিত।” যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) আলোচনার সময়ও এই বিলের বিরোধিতা করা হয়েছিল উল্লেখ করে আদিব বলেন, “এটা ধরে নেওয়া উচিত নয় যে আমরা যুদ্ধে হেরে গিয়েছি। আমরা সবেমাত্র শুরু করেছি। এটি দেশকে বাঁচানোর লড়াই। কারণ প্রস্তাবিত আইনটি ভারতের কাঠামোকে বিপন্ন করে। আমরা আদালতে যাব। এই (প্রস্তাবিত) আইন প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আমরা বিশ্রাম নেব না।” তিনি দেশের সমস্ত বিবেকবান নাগরিককে এই বিলের বিরোধিতা করার জন্য আবেদন জানান এবং আইনি পথে ও জনসমক্ষে বিক্ষোভ দেখানোর কথা বলেন।
এআইএমপিএলবি-র সহ সভাপতি মহম্মদ আলি মহসিন জানান, মুসলিম সমাজ ওয়াকফ (সংশোধন) বিল ২০২৫-কে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং এটিকে বৈষম্যমূলক, সাম্প্রদায়িকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মুসলিম নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকারের উপর স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে বর্ণনা করে। তিনি বলেন, “আমরা এই লড়াই শুরু করেছি। কারণ আমরা দেশকে বাঁচাতে চাই। আমাদের লক্ষ্য এই কালা আইনের অবসান ঘটানো। বোর্ড সদস্যরা কৃষকদের আন্দোলনের মতো দেশব্যাপী বিক্ষোভ করবেন। আমরা সারা দেশে কৃষকদের মতোই কর্মসূচি আয়োজন করব। প্রয়োজনে, আমরা রাস্তা অবরোধ করব এবং বিলের বিরোধিতা করার জন্য সকল শান্তিপূর্ণ পদক্ষেপ নেব। বিলটি সংবিধানের ১৪, ২৫ এবং ২৬ অনুচ্ছেদে অন্তর্ভুক্ত ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাম্য এবং ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিগুলিকে ক্ষুণ্ন করে।”
মহম্মদ আলি মহসিন এই বিল নিয়ে তাদের আপত্তির মূল বিষয়গুলি তুলে ধরেন। এর মধ্যে অন্যতম হল ওয়াকফ বোর্ডের গঠন পরিবর্তন এবং অমুসলিমদের বোর্ডের সদস্য করা। মহসিনের দাবি, “এই বিধানগুলি ওয়াকফ বোর্ডের স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ন করে, যার ফলে সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় এবং দাতব্য দান পরিচালনার অধিকারের সঙ্গে আপস করা হয়।”
সাংবাদিক বৈঠকের পর AIMPLB একটি বিবৃতি জারি করে। বিবৃতিতে এই সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করার জন্য সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ এবং অসাম্প্রদায়িক দলগুলির পাশাপাশি ‘বিবেকবান’ সাংসদদের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। সাংসদদের ওয়াকআউট না করে এই বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার এবং এর বিপক্ষে ভোট দেওয়ার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।