ভেজাল পনিরে জীবন সংশয়, তবুও দেদারে বিকোচ্ছে দোকানে, লিভার ও চোখ হতে পারে ক্ষতিগ্রস্ত!

বাজার থেকে সস্তায় পনির কিনে এনে খাচ্ছেন? বয়স্ক থেকে শিশু, পরিবারের সকলে মিলে খাচ্ছেন? তাহলে সাবধান! এই ভেজাল পনির আপনার শরীরে ডেকে আনতে পারে মারাত্মক রোগ। বিশেষ করে লিভার এবং চোখের ক্ষতির কারণ হতে পারে এই ভেজাল পনির। অথচ শহরের আনাচে কানাচে রমরমিয়ে চলছে এই ভেজাল পনিরের ব্যবসা। দাম কম হওয়ায় অনেকেই আকৃষ্ট হচ্ছেন। একই ছবি ভেজাল ছানার ক্ষেত্রেও।
পুষ্টিবিদ দীপিকা ব্যানার্জি এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভেজাল পনির থেকে শরীরে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে ডায়াবিটিক রোগীদের ক্ষেত্রে খুব দ্রুত ক্ষতি হতে পারে। এছাড়াও শিশু থেকে বয়স্ক সকলেরই ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।’ শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব এই বিষয়ে অবগত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন এবং পুরনিগমের স্বাস্থ্য বিভাগকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেবেন বলেছেন।
সরকারি দুগ্ধ প্রকল্প হিমুল এবং বাংলার ডেয়ারির সঙ্গে যুক্ত অভিজ্ঞ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ভালো ফ্যাটযুক্ত এক লিটার দুধ থেকে সর্বোচ্চ ২০০-২২৫ গ্রাম ছানা তৈরি হতে পারে, যদি দুধে অন্তত ৬.৫ শতাংশ ফ্যাট থাকে। সেই ছানা থেকে জল ঝরিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় লবণ জল দিয়ে পনির চেম্বারে চাপা দিয়ে রাতভর রাখলে সকালে জমাট পনির তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভালো ফ্যাটযুক্ত দুধের দাম অন্তত ৬০ টাকা লিটার। সেই হিসাবে এক কেজি পনির তৈরি করতে পাঁচ-ছয় লিটার বা তার বেশি দুধ লাগে। তৈরির খরচ ও বাজারজাত করার খরচ ধরে এক কেজি ভালো পনিরের দাম ৩০০ টাকার বেশি হওয়া উচিত।
অথচ শিলিগুড়ির বাজারে বর্তমানে ২০০ টাকা কেজিতেও পনির বিক্রি হচ্ছে। হাকিমপাড়া, হরেন মুখার্জি রোড, হায়দরপাড়া, সুভাষপল্লি, মিলনপল্লি, লেকটাউনের মতো এলাকায় গজিয়ে উঠেছে নতুন নতুন পনিরের দোকান। বেশিরভাগ ব্যবসায়ীই প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে কেজি দরে কিনে এনে বিক্রি করছেন। খুচরো বিক্রেতাদের কাছে যে পনির ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, তা ব্যবসায়ীরা আরও কম দামে কিনছেন, যা ভেজালের ইঙ্গিত দেয়।
অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, কম দামের দুধের সঙ্গে পাউডার দুধ, ময়দা এবং অ্যারারুট পাউডার মিশিয়ে ভেজাল পনির তৈরি করা হচ্ছে। বেশিদিন সংরক্ষণের জন্য মেশানো হচ্ছে বিভিন্ন প্রিজারভেটিভ ও রাসায়নিক। এই পনির তৈরিতে ১০-১২ ঘণ্টা সময়ও লাগছে না, যা সহজেই বোঝা যায় কতটা কৃত্রিম উপায়ে এটি তৈরি হচ্ছে।
জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডাঃ স্মরজিৎ বণিক বলেন, ‘এইসব কৃত্রিম পনির খেলে প্রথমে লিভার এবং কিডনি নষ্ট হতে পারে। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দেখা দেবে। এরপর ত্বক থেকে শুরু করে চোখ সহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই কম দামে পাওয়া যাচ্ছে ভেবে যেখানে সেখান থেকে পনির কেনা উচিত নয়।’ দার্জিলিংয়ের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ তুলসী প্রামাণিক জানিয়েছেন, তারা দু’-একদিনের মধ্যেই শিলিগুড়ি শহরে অভিযান চালাবেন এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে পনিরের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার ব্যবস্থা করবেন।
এমতাবস্থায়, সাধারণ মানুষকে কম দামের ভেজাল পনির চিনে নিতে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিচিত ও বিশ্বস্ত দোকান থেকেই পনির কেনার কথা বলছেন তারা।