টানা হারে জর্জরিত চেন্নাই, ঘুরে দাঁড়াতে প্রাক্তন ওপেনারের দাওয়াই

আইপিএলের শুরুটা বেশ ভালো করেও ছন্দ হারিয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস (সিএসকে)। প্রথম ম্যাচে জয়ের পর টানা দুটি ম্যাচে পরাজয়ের সম্মুখীন হওয়ায় পয়েন্ট টেবিলে সাত নম্বরে নেমে গিয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। তিন ম্যাচে মহেন্দ্র সিং ধোনির দলের সংগ্রহ মাত্র ২ পয়েন্ট। যদিও টুর্নামেন্টের এখনও অনেকটা পথ বাকি, তবে প্লে-অফের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে চেন্নাইকে দ্রুত জয়ে ফিরতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে চেন্নাই সুপার কিংসকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন ওপেনার কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি বেশ কিছু পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন সিএসকে-র প্রথম একাদশে। তাঁর প্রধান পরামর্শ হল, অভিজ্ঞ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে যেন পাওয়ারপ্লে-র সময় বল করতে না দেওয়া হয়।
শ্রীকান্ত মনে করেন, অশ্বিন মিডল ওভারে (৭-১৮ ওভারের মধ্যে) বেশি কার্যকরী হতে পারেন। তাঁর মতে, পাওয়ারপ্লে-তে অন্য বোলারদের ব্যবহার করা উচিত।
এছাড়াও, শ্রীকান্ত আরও দু’জন ক্রিকেটারকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “জ্যামি ওভারটনের পরিবর্তে ডেভন কনওয়েকে খেলানো উচিত। কনওয়ে একজন প্রমাণিত ওপেনার এবং চেন্নাইয়ের ব্যাটিং লাইনআপকে স্থিতিশীলতা দিতে পারে।” একইসঙ্গে তিনি অংশুল কম্বোজ নামক তরুণ ক্রিকেটারকে প্রথম একাদশে সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন।
শ্রীকান্তের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রথম একাদশে বেশ কিছু রদবদল হতে পারে। তিনি বলেন, “অশ্বিনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, ওকে পাওয়ারপ্লের সময় বল দেওয়া উচিত নয়। আমি হলে রাহুল ত্রিপাঠীকে বাদ দিয়ে অংশুল কম্বোজকে প্রথম একাদশে আনতাম। এবং ওভারটনের জায়গায় ডেভন কনওয়েকে রাখতাম।”
এছাড়াও, শ্রীকান্ত শিবম দুবেকে প্রথম একাদশে খেলানোর এবং আন্দ্রে সিদ্ধার্থকে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন। পেস বোলিং বিভাগে মুকেশ চৌধুরীর কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। শ্রীকান্ত মনে করেন, মুকেশ একজন ভালো বোলার এবং অতীতেও সিএসকে-র হয়ে ভালো পারফর্ম করেছেন, তাই তাকেও সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
রবিচন্দ্রন অশ্বিন তিনটি ম্যাচে তিনটি উইকেট নিয়েছেন। তবে শ্রীকান্তের মতে, তাঁর দক্ষতা মিডল ওভারে ব্যাটসম্যানদের চাপে ফেলতে বেশি কাজে আসবে।
এখন দেখার বিষয়, কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্তের এই মূল্যবান পরামর্শ চেন্নাই সুপার কিংস ম্যানেজমেন্ট গ্রহণ করে কিনা এবং আগামী ম্যাচগুলোতে দল কেমন পারফর্ম করে। টানা পরাজয়ের ধাক্কা সামলে ধোনির দল কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, সেটাই এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।