জন্মদিনে দ্বারকাধীশের আশীর্বাদ কামনায় ১৪০ কিমি পথ পায়ে হেঁটে চলেছেন অনন্ত আম্বানি, পথে বাঁচালেন ২৫০ প্রাণ

শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির ছোট ছেলে অনন্ত আম্বানি তাঁর ৩০তম জন্মদিন পালনের আগে এক বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন। জন্মদিনে দ্বারকাধীশের আশীর্বাদ লাভের আশায় তিনি গুজরাটের জামনগর থেকে দ্বারকা পর্যন্ত ১৪০ কিলোমিটারের দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মঙ্গলবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে তিনি এই পদযাত্রা শুরু করেছেন।

অনন্তের এই পদযাত্রার বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তেমনই একটি ভাইরাল ভিডিও থেকে জানা গেছে, নিজের এই দীর্ঘ যাত্রার শুরুতেই ২৫০টি নিরীহ প্রাণ বাঁচিয়েছেন অনন্ত আম্বানি।

ঘটনাটি ঘটে জামনগরে। অনন্তের কনভয় রাস্তায় একটি মুরগি বোঝাই গাড়িকে আটকায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাড়িটি একটি কসাইখানার দিকে যাচ্ছিল। অসহায় প্রাণীগুলির দুর্দশা দেখে অনন্ত আর স্থির থাকতে পারেননি। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ওই ২৫০টি মুরগিকে দ্বিগুণ দাম দিয়ে কিনে নেন। শুধু তাই নয়, তিনি তাঁর দলের সদস্যদের ওই মুরগিগুলির সঠিক চিকিৎসা ও পরিচর্যার দায়িত্বও দেন।

অনন্ত আম্বানির এই মানবিক পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তাঁর এই কাজ যুবসমাজকে সনাতন ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট করবে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উৎসাহিত করবে।

প্রসঙ্গত, জামনগরেই গড়ে উঠেছে অনন্ত আম্বানির স্বপ্নের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ কেন্দ্র ‘বনতারা’। চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই অত্যাধুনিক কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেছেন। ‘বনতারা’ বন্যপ্রাণী উদ্ধার, পুনর্বাসন এবং সংরক্ষণের জন্য একটি অনন্য স্থান হিসেবে ইতিমধ্যেই পরিচিতি লাভ করেছে। বর্তমানে এই কেন্দ্রে ২,০০০-এর বেশি প্রজাতির দেড় লক্ষেরও বেশি উদ্ধার হওয়া, বিপন্ন এবং বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর আশ্রয় মিলেছে। অসহায় প্রাণীদের প্রতি অনন্তের গভীর মমত্ববোধের পরিচয় আগেও পাওয়া গেছে। জামনগরের রাস্তায় মুরগি বোঝাই গাড়ি দেখে তাঁর ব্যাকুল মন তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কসাইখানার পরিবর্তে এই নিরীহ প্রাণীদের ঠাঁই হবে তাঁর ‘বনতারা’তেই।

নিজের ৩০তম জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং আধ্যাত্মিক শান্তির সন্ধানে অনন্ত আম্বানির এই ১৪০ কিলোমিটারের পদযাত্রা নিঃসন্দেহে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। একইসঙ্গে পথে ২৫০টি প্রাণ বাঁচানোর তাঁর এই মহানুভবতা তাঁকে আরও বেশি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে দিয়েছে।