রাস্তায় নামাজ পড়া নিয়ে ফের কড়া বার্তা যোগীর, ওয়াকফ বিলের সমর্থনে সরব

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ফের একবার তাঁর কঠোর প্রশাসনিক নীতি এবং হিন্দুত্ববাদী ভাবনার স্পষ্ট বার্তা দিলেন। সম্প্রতি তিনি প্রকাশ্যে রাস্তায় নামাজ পড়া নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছেন। তাঁর এই মন্তব্য এবং ওয়াকফ (সংস্কার) বিলের সমর্থন ফের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

যোগী আদিত্যনাথ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “রাস্তা শুধু যান চলাচলের জন্য। এটি কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা ধর্মীয় কার্যকলাপের স্থান হতে পারে না।” তিনি মনে করেন, কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায় যদি প্রকাশ্যে রাস্তার উপর নামাজ পড়ে, তবে তা সমাজের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবে। হিন্দুদের কুম্ভ মেলায় ধর্মীয় নিয়ম মেনে অংশগ্রহণের উদাহরণ টেনে তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি বার্তা দেন, যাতে তাঁরাও সামাজিক দায়িত্ববোধ বজায় রাখেন।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সরকারের সংস্কারমূলক পদক্ষেপের প্রশংসা করে ওয়াকফ (সংস্কার) বিলের সমর্থনে জোরালো বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “ওয়াকফ বোর্ডগুলো এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। তারা মুসলিম সমাজের কল্যাণে কোনো কাজ করছে না, বরং সরকারি সম্পত্তি দখলেই ব্যস্ত।” যোগীর মতে, এই বোর্ডগুলির সম্পত্তি সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে মুসলিমদের স্বার্থ অনেক বেশি সুরক্ষিত হতে পারত।

যোগী আদিত্যনাথের ‘বুলডোজার মডেল’, যা অবৈধ দখল উচ্ছেদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তিনি এটিকে তাঁর প্রশাসনিক সাফল্যের নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বুলডোজারের ব্যবহার কেবল অবৈধ দখল উচ্ছেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শহরের উন্নয়নেও এটি সহায়ক হতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের একটি মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি দাবি করেন যে কোনো উচ্চ আদালতের বিরোধী মন্তব্য তাঁদের রাজ্য সম্পর্কিত নয়, বরং শীর্ষ আদালত তাঁদের গাইডলাইনকে প্রশংসা করেছে।

মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি তাঁর সরকারের সহানুভূতি তুলে ধরতে গিয়ে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “মুসলিমরা রাজ্যের জনসংখ্যার ২০ শতাংশ হলেও, তারা সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের ৩৫-৪০ শতাংশ সুবিধা পাচ্ছে।” এই পরিসংখ্যানের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করতে চান যে তাঁর সরকার কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্য করে না। তিনি আরও বলেন, তাঁদের সরকার কখনোই রাজনৈতিক স্বার্থে কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাতিত্ব বা বিভাজন করে না।

তবে, তাঁর এই কঠোর দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যেও যোগী আদিত্যনাথ দাবি করেন যে ভারতের প্রত্যেক নাগরিক সরকারের সমস্ত সুবিধা পাওয়ার অধিকারী। যদিও তাঁর এই বক্তব্য অনেকের কাছে প্রশ্নবোধক, তবে এর মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন সৃষ্টির আশঙ্কাও থেকে যায়।

যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন উত্তরপ্রদেশে উন্নয়নের কাজ চললেও, তাঁর শাসন ব্যবস্থায় হিন্দুত্বের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি বিশেষ বার্তা অনেকের কাছেই বিতর্কিত। তাঁর শাসন পদ্ধতি একদিকে যেমন জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, তেমনই সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিভেদও সৃষ্টি করছে। তবে তাঁর প্রশাসনিক পদক্ষেপ যে একটি শক্তিশালী ছাপ ফেলেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এখন দেখার বিষয়, বিজেপি এবং যোগী আদিত্যনাথের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল এই হিন্দুত্ববাদী ভাবনার উপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে, নাকি বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁরা আরও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেন।