“ওদের দাঙ্গার প্ল্যানে পা দেবেন না, পাশে দিদি আছে”- মুসলিম সমাজকে বড় বার্তা দিলেন মমতা

প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ পাঠের অনুষ্ঠানে রেড রোডে যোগ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি লন্ডন সফর শেষ করে কলকাতায় ফেরার পরেই তিনি রেড রোডের এই খুশির অনুষ্ঠানে সামিল হন। রেড রোডের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে ফের একবার সম্প্রীতির বার্তা দিলেন এবং বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন।

এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পাশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বলেন, “আমরা বিভাজনের রাজনীতি করি না।” ঈদ-এর শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তিনি বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, “ওরা চায় বিভাজন।” এরপরেই তিনি রাজ্যবাসীকে সতর্ক করে বলেন, “কারও প্ররোচনায় পা দেবেন না। কেই প্ররোচিত করলে মনে রাখবেন পাশে দিদি আছে।”

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “ওরা দাঙ্গার প্ল্যান করছে, আপনারা এই খেলায় পা দেবেন না,সবাই খুশি থাকুন। কেউ কিছু বললে মনে রাখবেন দিদি আছে আপনাদের সঙ্গে। যে চেঁচাচ্ছে তাকে চেঁচাতে দিন।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবরাত্রির শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “নবরাত্রির জন্যও শুভ কামনা, আমি চাইব না তারজন্য দাঙ্গা করুক কেউ। সব ধর্মের জন্য আমি লড়াই করব। আমি প্রাণ দেব, আদর্শ ছাড়ব না।”

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “একটা বিশেষ দল বাংলায় দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করে। ওদের একটাই আওয়াজ দাঙ্গা করো, কিন্তু এখানে আমরা হিন্দু-মুসলিম সবাই ভাই ভাই। এখানে বিভাজনের রাজনীতি বরদাস্ত করব না।” রেড রোডে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “সাধারণ মানুষ দাঙ্গা করে না, একটি নির্দিষ্ট পার্টি দাঙ্গা করে।” সেইসঙ্গে তিনি যোগ করেন, “ আমি রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দের ধর্ম মানি। জুমলা পাটির ধর্ম মানি না। আপনাদের বিরুদ্ধে কেউ নেই। একতা বজায় রাখুন। পরিবার নিয়ে শান্তিতে থাকুন, কোনওরকম দাঙ্গা করতে দেবেন না, পরিকল্পনায় পা দেবেন না।”

এদিনের রেড রোডের মঞ্চ থেকে রাজ্যের দুই বিরোধী দল বাম ও বিজেপির বিরুদ্ধেও সরব হন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর কথায়, ‘রাম-বাম আমাকে প্রশ্ন করে, আপনি হিন্দু কিনা? আমি উত্তর দিয়েছি, আমি হিন্দু, মুসলিম, শিখ ও দিনশেষে ভারতীয়। এরা কী চায়? শুধু বিভাজনের রাজনীতি করে। আমি নিজের জীবন দেশের জন্য ত্যাগ করেছি।’

মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা রাজ্যের সম্প্রীতির ঐতিহ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। ঈদ-এর পবিত্র দিনে রেড রোডের এই অনুষ্ঠান মিলন ও ঐক্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।