ভূমিকম্পের সময় জীবন বাজি রেখে নবজাতকদের আগলে রাখলেন ২ নার্স, দেখেনিন সেই ভিডিও

মিয়ানমারে সম্প্রতি আঘাত হানা ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১৬০০ ছাড়িয়ে গেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশটির ৬টি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সরকার। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের প্রভাবে কেঁপে উঠেছে পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি দেশও।
গত শুক্রবারের এই শক্তিশালী ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে প্রতিবেশী চীনেও। যদিও সেখানে তেমন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে কম্পনের তীব্রতা বেশ কিছু ভিডিওতে ধরা পড়েছে। তেমনই একটি ভিডিও ফুটেজে চীনের ইউনান প্রদেশের একটি হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের পরিস্থিতি উঠে এসেছে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমিকম্পের সময় দুজন নার্স যেভাবে সদ্যোজাত শিশুদের আগলে রেখেছিলেন, তা দেখে তাদের সাহসিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা। রবিবার (৩০ মার্চ) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস নাউ এই তথ্য জানিয়েছে।
রিখটার স্কেলে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি গত শুক্রবার দুপুরে মিয়ানমারে আঘাত হানে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১৬০০ ছাড়িয়েছে এবং প্রায় ৩ হাজার ৪০০ জন আহত হয়েছেন। প্রতিবেশী থাইল্যান্ডেও বেশ কিছু বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। চীন, ভারতের পূর্বাঞ্চল, ভিয়েতনাম এবং বাংলাদেশেও এই ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে চীনের ইউনান প্রদেশের একটি হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের একটি কক্ষে ছয়টি নবজাতকের ক্র্যাডল পাশাপাশি রাখা রয়েছে এবং তাতে শিশুরা ঘুমন্ত।
আকস্মিকভাবে কেঁপে ওঠে পুরো ঘর। ঘরের এক কোণে রাখা পানির ফিল্টার উল্টে যায় এবং পানি মেঝেতে গড়াতে থাকে। কম্পনের তীব্রতায় চাকা লাগানো ক্র্যাডলগুলো ঘরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গড়াতে শুরু করে।
ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নার্স দ্রুত এক নবজাতককে কোলে তুলে নিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে অন্য একটি গড়াতে থাকা ক্র্যাডল ধরার চেষ্টা করছেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ঘরের অন্য প্রান্ত থেকে আরও একটি ক্র্যাডল তার দিকে এগিয়ে আসে। ওই নার্স কোনোমতে দ্বিতীয় ক্র্যাডলটিকেও হাত দিয়ে আটকে দেন।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় নার্স প্রাণপণে দু’হাত দিয়ে ঘরের অন্য দুটি ক্র্যাডল আগলে রাখার চেষ্টা করেন। কম্পন থামার আগ পর্যন্ত তারা শিশুদের সামান্যতম ক্ষতি হতে দেননি। কম্পন পুরোপুরি থেমে গেলে ক্র্যাডলগুলো স্থির হয়। পুরো ঘটনাটি হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
এই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই ওই দুই নার্সের সাহস ও কর্তব্যপরায়ণতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন নেটিজেনরা। অনেকেই তাদের মানবিকতা ও পেশাদারিত্বকে কুর্নিশ জানিয়েছেন।