দুর্ধর্ষ চোর বিকাশ নামদেব: বিলাসী জীবনধারা, কিন্তু পিছনে রয়েছে ভয়াবহ অপরাধের গল্প

কলকাতার রসগোল্লা থেকে গোয়ার সমুদ্র সৈকতে স্কচ, ২৬ বছর বয়সী বিকাশ নামদেবের জীবন ছিল একদম বিলাসবহুল। যেকোনো কিছুই তার জন্য অসাধ্য ছিল না—যা মন চেয়েছে, তা সে কিনে ফেলেছে। কলকাতার রসগোল্লার জন্য সে বিমানে চেপে চলে আসে কলকাতা, আর স্কচ খেতে চাইলে গোয়ার বিচে গিয়ে বসে মজা নেয়। তবে, এই বিলাসী জীবনধারার পিছনে ছিল একটি ভয়াবহ গল্প—বিকাশ নামদেব এক দাগি চোর, যিনি তার শৌখিন জীবনযাপন চালাতেন চলন্ত ট্রেনে চুরি করে।

বিকাশ নামদেবের বাড়ি মধ্যপ্রদেশে, এবং সে গত তিন মাস ধরে গুজরাতের বরোদা এবং সুরাতে মহিলাদের গয়না চুরি করছিল। বরোদা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে এবং তার ব্যাগ থেকে পাওয়া গেছে ৩৪ লক্ষ টাকার সোনার গয়না। প্রথমে গাড়ি চুরি করলেও, এক সময় চুরির এই নতুন কৌশল গ্রহণ করেছিল বিকাশ।

পুলিশ জানায়, বিকাশ ট্রেনে উঠে ভোরে ঘুমন্ত মহিলাদের গয়না চুরি করত। টু-এসি বা থ্রি-এসি কামরায় উঠতো এবং শিকারদের জ্ঞান না থাকার সুযোগ নিয়ে তাদের গয়না হাতিয়ে নিত। তার পর সুরাত বা বরোদায় নেমে গিয়ে, চুরি করা অলঙ্কার বিক্রি করত। তাকে চিনতে না পারার জন্য সে দামি জামাকাপড় পরত এবং নিজের পরিচয় বস্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবে দিত।

গুজরাত ছাড়াও, বিকাশের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং রাজস্থানে চুরির অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ তদন্তে জানায় যে, তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেক দিনের পুরনো, এবং সে প্রায়ই তার আধার কার্ড ব্যবহার করে হোটেল বুকিং করত, যাতে কেউ সন্দেহ না করে।

এমনকি বিকাশের পরিবারও তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে না, কারণ তার অপরাধমূলক জীবনযাপন এবং বাবা মারা যাওয়ার পর সে ঘর ছেড়ে চলে যায়। এখন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে এবং তার অপরাধের জাল আরো গভীরে চলে গেছে।

বিকাশের জীবনের এই ভেজাল জীবনধারা শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে, কিন্তু তার এই বিলাসবহুল জীবনযাপন কতটা বিপজ্জনক ছিল তা এখন স্পষ্ট।