“১০ বার চেয়েও ৪৫০ কিমি বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জমি পাইনি”- অমিত শাহ

পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের ২,২১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের মধ্যে ১,৬৫৩ কিলোমিটারে বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ৫৬৩ কিলোমিটার সীমান্ত এখনও খোলা রয়েছে, যার মধ্যে ১১২ কিলোমিটার এলাকা পাহাড় ও নদী-নালার জন্য বেড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি। বাকি ৪৫০ কিলোমিটারে বেড়া নির্মাণ এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অভিযোগ, এই কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।

জমি অধিগ্রহণে বাধা

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লোকসভায় জানিয়েছেন, “দশবার চিঠি দেওয়া এবং সাতবার বৈঠক করা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার জমি অধিগ্রহণে কোনও সহযোগিতা করেনি।” তিনি অভিযোগ করেন, ৪৫০ কিলোমিটার সীমান্তে বেড়া নির্মাণ বাকি থাকার মূল কারণ রাজ্য সরকারের “অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি দয়াদৃষ্টি”। শাহ আরও বলেন, “বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু হলেই তৃণমূলের কর্মীরা ধর্মীয় স্লোগান দিয়ে এবং হইচই করে কাজে বাধা দেয়।”

সীমান্তের বর্তমান চিত্র

বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ২,২১৬ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১,৬৫৩ কিলোমিটারে বেড়া দেওয়া হয়েছে। এই অংশে রাস্তা ও চৌকি নির্মাণও সম্পন্ন হয়েছে। তবে বাকি ৫৬৩ কিলোমিটারের মধ্যে ১১২ কিলোমিটারে পাহাড়, নদী ও জলাভূমির কারণে বেড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি। অবশিষ্ট ৪৫০ কিলোমিটারে কাজ এগোতে না পারার জন্য কেন্দ্র সরাসরি রাজ্য সরকারকে দায়ী করেছে।

রাজনৈতিক বিতর্ক

অমিত শাহ দাবি করেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকারের আমলে অনুপ্রবেশকারীদের সুবিধার্থে এই কাজ আটকে রাখা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “২৪ পরগনা জেলা থেকে ধরা পড়া বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আধার কার্ড দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে তারা দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছে যায়।” তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও এই অভিযোগের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “দেশ কোনও ধর্মশালা নয়। জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা হবে না।” তিনি জানান, রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা যদি দেশে অশান্তি সৃষ্টি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শাহ আশ্বাস দেন, “২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন করলে এই সমস্যার সমাধান করা হবে।”

সীমান্তে বেড়ার গুরুত্ব

বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের লক্ষ্য হল অবৈধ অনুপ্রবেশ, গবাদি পশু পাচার, মাদক চোরাচালান ও সন্ত্রাসবাদ রোধ করা। কেন্দ্রের দাবি, বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন হলে এই সমস্যাগুলি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে রাজ্য সরকারের সহযোগিতা না পাওয়ায় এই প্রকল্প বারবার বিলম্বিত হচ্ছে।

উপসংহার: বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণ নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত তীব্র আকার নিয়েছে। জমি অধিগ্রহণ ও রাজনৈতিক বাধার কারণে ৪৫০ কিলোমিটার সীমান্ত এখনও অরক্ষিত। এই ইস্যু আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।