‘ভারত-চিন সম্পর্কে ইস্যু থাকবে ভবিষ্যতেও, তবে…’, দুই দেশ নিয়ে মুখ খুললেন এস জয়শংকর

২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ভারত-চিন সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত মিলছে, তবে দুই দেশের মধ্যে এখনো বহু বিষয় নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। অদূর ভবিষ্যতেও এমন চ্যালেঞ্জ থাকবে বলে অকপটে স্বীকার করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। নয়াদিল্লির এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি বলেন, “সমস্যা ভবিষ্যতেও থাকবে, তবে সমাধানের পথও খোলা থাকবে। ২০২০ সালে যা ঘটেছিল, তা কোনো স্থায়ী সমাধান ছিল না।”

ভারত ও চিনের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, বেজিংয়ে সীমান্ত বিষয়ক ওয়ার্কিং মেকানিজম ফর কনসালটেশন অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন (WMCC) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আন্তঃসীমান্ত নদী সম্পর্কিত ইস্যু, এবং কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা নিয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনা করেন।

২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত-চিন সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা মিটিয়ে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে, লাদাখ সেক্টরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (LAC) নিয়ে যে সামরিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা ধাপে ধাপে সমাধান করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি ভারত-চিন সহযোগিতাকে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন। চিনও মোদীর এই বক্তব্যকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত ডিসেম্বরে বেজিংয়ে বিশেষ প্রতিনিধিদের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে যে আলোচনা হয়েছিল, সেই সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করা হয়েছে এই বৈঠকে। ভারতের মতে, “বৈঠকটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস চিন সফরে যাওয়ার আগেই ভারত ও চিনের মধ্যে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রেক্ষাপটে, দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভারত ও চিনের মধ্যে সম্পর্ক উন্নতির লক্ষ্যে এই আলোচনা ইতিবাচক বলে মনে করা হলেও, উভয় দেশকেই দীর্ঘমেয়াদি বোঝাপড়ার দিকে এগোতে হবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।