OBC মামলা ইচ্ছে করেই পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে রাজ্য? পাল্টা HC-তে মামলার হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

ওবিসি সংরক্ষণ ইস্যুতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্য সরকার ওবিসি সংরক্ষণের জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেছিল এবং সেই আবেদন মঞ্জুরও হয়েছে। কিন্তু শুভেন্দুর অভিযোগ, রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদনের আগেই গোপনে সমীক্ষার কাজ শুরু করে দিয়েছে, যা স্পষ্টত সংবিধানের নিয়ম লঙ্ঘন। তিনি দাবি করেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে মামলাটিকে দীর্ঘায়িত করে এক বিশেষ সম্প্রদায়কে সুবিধা পাইয়ে দিতে চাইছে, যার ফলে লক্ষাধিক চাকরির নিয়োগ আটকে রয়েছে।

সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার সংবিধান, সংসদ ও বিচারব্যবস্থার তোয়াক্কা করে না। বাম আমল থেকেই সংখ্যালঘু তোষণের মাধ্যমে ওবিসি তালিকায় নতুন সম্প্রদায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তৃণমূল সরকার আরও বিস্তৃত করেছে।” তিনি অভিযোগ করেন, ভোটব্যাংকের স্বার্থে মূলত ১১৩টি নতুন জনগোষ্ঠীকে ওবিসি তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে মাত্র চারটি হিন্দু জনগোষ্ঠী, বাকিরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত। এর ফলে ১৭ শতাংশ সংরক্ষণের সুবিধা মূল ওবিসি সম্প্রদায়ের বদলে নতুন অন্তর্ভুক্তদের দিকেই বেশি যাচ্ছে।

বৈঠকে শুভেন্দু কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট নিয়োগের তালিকার একটি উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক নিয়োগ তালিকায় ৫০ জনের মধ্যে মাত্র ২ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের, বাকিরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।”

শুভেন্দু আরও বলেন, ওবিসি সংরক্ষণের জন্য যে জাতীয় কমিশন রয়েছে, সেই সংস্থার অনুমোদন না নিয়েই রাজ্য সরকার নিজেদের ইচ্ছেমতো সম্প্রদায় অন্তর্ভুক্ত করছে। তিনি উল্লেখ করেন, হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই এমন ১১৩টি ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করেছে এবং এটিকে তোষণের রাজনীতি বলেও কটাক্ষ করেছেন।

বিরোধী দলনেতা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে সামনে এনে বলেন, “রাজ্য সরকার ৩ মাস সময় চেয়ে নিয়েছে, অথচ তার আগেই সার্ভে শুরু করে দিয়েছে।” তিনি নথিপত্র দেখিয়ে দাবি করেন, ১০ মার্চ থেকেই এই সমীক্ষা শুরু হয়েছে, অথচ সুপ্রিম কোর্ট ১৮ মার্চ সার্ভে করার নির্দেশ দেয়। এর থেকেই পরিষ্কার, রাজ্য সরকার আদালতের রায়ের আগেই নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।

শুভেন্দু আরও অভিযোগ করেন, এই সমীক্ষার কাজ গোপনে চলছে এবং রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ এটি পরিচালনা করছেন। তিনি নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, সেখানে বিজেপির ব্লক সভাপতি শ্যামল সাউ বিডিওকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বীকার করেন যে, কোনও লিখিত নির্দেশ ছাড়াই তিনি উপরের নির্দেশে কাজ করছেন।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, তিনি খুব শিগগিরই এই বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টে উপস্থাপন করবেন এবং রাজ্য সরকারের এই ‘অবৈধ’ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনত পদক্ষেপ নেবেন।