“তৃণমূলের শিক্ষক নেতা শেখ সিরাজুল ইসলামকে বরখাস্তের নির্দেশ”,বাতিল হল চাকরি

তৃণমূল কংগ্রেসের শিক্ষক নেতা শেখ সিরাজুল ইসলামের চাকরি বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ। এই রায়ে বিচারপতি মান্থা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, “হাওড়ার একটি স্কুলের এই শিক্ষক নেতা দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন। তাঁকে কোনওভাবেই চাকরিতে রাখা যায় না।” এই নির্দেশের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে শেখ সিরাজুলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হল।
এর আগে, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় শেখ সিরাজুলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের আরেক বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। সূত্রের খবর, বামফ্রন্ট আমলে ১৯৯৮ সালে শিবপুরের দীনবন্ধু ইনস্টিটিউশন (মেন)-এ জীবনবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন সিরাজুল। তবে তাঁর এই নিয়োগ নিয়েই সেই সময় থেকে বিতর্ক শুরু হয় এবং মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এতদিন মামলা চললেও তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের শিক্ষক সংগঠনের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে চাকরি করে যাচ্ছিলেন।
বিচারপতি মান্থার ডিভিশন বেঞ্চের এই রায়কে শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি, এবং দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরি পাওয়া কোনও ব্যক্তিকে এই পদে রাখা যায় না।
এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই রায় দলের ভাবমূর্তির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, বিরোধীরা এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আরও জোরালো করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
শেখ সিরাজুল ইসলামের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই রায়ের পর শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অন্যান্য মামলাগুলোতেও আদালতের কঠোর হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বেড়ে গেছে।