মার্কিন ধর্মীয় স্বাধীনতা রিপোর্টে ভারতকে নিশানা! পাল্টা সুর চড়াল নয়াদিল্লি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত কমিশনের (USCIRF) রিপোর্ট ঘিরে চড়ছে বিতর্কের পারদ। মঙ্গলবার, প্রতিবছরের মতোই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ফেডারেল প্রশাসনের অন্তর্গত এই কমিশন। তাদের কাজ মূলত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আমেরিকার নীতি নির্ধারণে পরামর্শ দেওয়া। তবে এবার তাদের রিপোর্টে ভারতকে নিয়ে তীব্র অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।

আমেরিকার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, USCIRF তাদের রিপোর্টে ভারতের গুপ্তচর সংস্থা RAW (Research and Analysis Wing)-কে নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছে। অভিযোগ, শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ও খলিস্তানি নেতাদের হত্যার ঘটনায় RAW জড়িত।

শুধু RAW-কে নিষিদ্ধ করার সুপারিশই নয়, রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে—ভারতের বর্তমান সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছে।ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে এবং সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্য বাড়ছে। গত নির্বাচনে ধর্মীয় বিভাজনমূলক প্রচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে কমিশন।

এই রিপোর্ট প্রকাশের পরই নয়াদিল্লি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বুধবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র কড়া ভাষায় এই রিপোর্টকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” ও “ভিত্তিহীন” বলে আখ্যা দিয়েছেন।

ভারত সরকারের বক্তব্য: “আমরা USCIRF-এর রিপোর্ট দেখেছি। এটি পুরোপুরি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিভ্রান্তিকর।”কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা ভারতের বহুত্ববাদী সংস্কৃতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলার চেষ্টা করছে।”এটি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন এবং একটি নির্দিষ্ট অভিসন্ধি নিয়ে তৈরি করা হয়েছে।”

এই রিপোর্ট প্রকাশের পর ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করবে না। অন্যদিকে, USCIRF-এর আগেও ভারতকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার ইতিহাস রয়েছে, যা দিল্লি একাধিকবার প্রত্যাখ্যান করেছে।

এবারের এই রিপোর্টও সেই তালিকায় যুক্ত হলো, তবে এর পরবর্তী প্রতিক্রিয়া কী হয়, তা দেখার অপেক্ষায় সবাই।