OMG! দাউ দাউ করে জ্বলছে বাড়ি, পুকুরপারে গাছে ঝুলছেন গৃহকর্তা, রহস্যে ঘেরা ঘটনায় চাঞ্চল্য

লিলুয়া থানার তাঁতিপাড়ায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বাড়ি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে। স্থানীয়দের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার পর চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে যখন বাড়ির মালিক অরুণ রায়ের ঝুলন্ত দেহ পাশের একটি গাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনা এলাকায় রহস্যের জট পাকিয়েছে।

আগুনের তাণ্ডব

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হঠাৎ একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দে তাঁতিপাড়া এলাকা কেঁপে ওঠে। শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ঘর থেকে বেরিয়ে দেখেন, অরুণ রায়ের বাড়ি দাউদাউ করে জ্বলছে। স্থানীয়রা জলাশয় থেকে বালতিতে করে জল এনে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে তাঁদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে দমকলের দুটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে বাড়িটি পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

গৃহকর্তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

প্রথমে সকলের ধারণা ছিল, অরুণ রায় বাড়ির ভেতরে আটকে পড়েছেন। কিন্তু আগুন নেভার পর পাশের জলাশয়ের ধারে একটি গাছে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। তৎক্ষণাৎ লিলুয়া থানার জগদীশপুর ফাঁড়ির পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

আত্মহত্যা না হত্যা?

প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের মনে হয়েছিল, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে আগুন লেগেছে। তবে অরুণ রায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি আত্মহত্যা হতে পারে। তবে বাড়িতে আগুন লাগানোর পর গৃহকর্তা নিজেই গলায় দড়ি দিয়েছেন, নাকি এর পেছনে কোনও পরিকল্পিত হত্যার চক্রান্ত রয়েছে—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এবং মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।

পরিবারের অনুপস্থিতি

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় অরুণ রায়ের স্ত্রী ও সন্তান ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঠাকুরনগরে গিয়েছিলেন। বাড়িতে তিনি একাই ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে ঘটনার পেছনের কারণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, অরুণবাবু সাধারণত একা থাকতেন না। তাঁর এই মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।

তদন্তে পুলিশ

লিলুয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের উৎস এবং অরুণ রায়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর ধরন সম্পর্কে আরও স্পষ্টতা আসবে। এলাকার বাসিন্দারা এই ঘটনার সত্যতা জানতে উৎসুক। পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ঘটনাস্থলের ফরেনসিক পরীক্ষাও করা হবে।

এই ঘটনা তাঁতিপাড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সত্য উদ্ঘাটন না হওয়া পর্যন্ত রহস্যের জট খোলার অপেক্ষায় রয়েছে এলাকাবাসী।