বিহারের সাংসদের বাংলার প্রশংসা: “দুই কোটি বিহারীকে কর্মসংস্থান দিয়েছে বাংলা”

পশ্চিমবঙ্গের মাটিকে কুর্নিশ জানিয়ে বিহারের মধুবনির সাংসদ অশোক কুমার যাদব বলেছেন, “এই বাংলা দুই কোটি বিহারীর কর্মসংস্থান করেছে, যার জন্য তাঁরা সম্মানে বাঁচতে পারেন।” তিনি আরও জানান, “বাংলার মাটিকে আমি প্রণাম জানাই,” বলে তিনি পশ্চিমবঙ্গের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মঙ্গলবার আসানসোলের বার্নপুর শিল্প শহরে বিজেপির দলীয় মিলন উৎসবে অংশ নিতে এসে এই মন্তব্য করেন বিহারের সাংসদ। এদিন তিনি আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল-এর সাথে উপস্থিত ছিলেন এবং বার্নপুরের ছটপুজো কমিটির সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেন। যদিও বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি সাংসদ।
সাংসদ অশোক কুমার যাদব সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “আগে বিহারে জঙ্গলরাজ ছিল, আর সেই কারণে অনেক বিহারী কর্মসংস্থানের জন্য পশ্চিমবঙ্গে চলে এসেছিলেন। প্রায় দুই কোটি বিহারী বাংলায় এসে এখানে মাথা তুলে আত্মসম্মানের সঙ্গে বাঁচতে শিখেছে। এজন্য বাংলাকে আমি প্রণাম জানাই।”
তবে এর পাশাপাশি, তিনি বিহারের উন্নতির কথা তুলে ধরে জানান, “২০০৫ সালের পর বিহার অনেক উন্নতি করেছে। এনডিএ নেতৃত্বাধীন সরকারের নেতৃত্বে বিহার এখন অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে। ২০১৪ সালের পর প্রধানমন্ত্রীও বিহারকে প্রচুর সাহায্য করেছেন। বিহারে সামনে নির্বাচন, তাই আমি সকল বিহারীকে বলবো, নিজের মাটিতে ফিরে এসে ভোট দিন। বিহারকে আরও শক্তিশালী ও বিকশিত করতে সহায়তা করুন।”
এই মন্তব্যের পর একদিকে, বঙ্গ বিজেপি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কর্মসংস্থানের অভাবের অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে বিহারের সাংসদ বাংলাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের দুই কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের কথা উল্লেখ করছেন। এই বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক তথা রাজ্যের বিজেপি সম্পাদক অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “এটা সত্যিই প্রাসঙ্গিক নয় যে, তিনি ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। বিহারে যে ‘জঙ্গলরাজ’ ছিল, তা এখন হয়ে গেছে পশ্চিমবঙ্গের ‘জঙ্গলরাজ’, যা মমতা ব্যানার্জির শাসনকালে সৃষ্টি হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এখানে বর্তমানে বিহারীদের উপর অত্যাচার হচ্ছে এবং বাইরে থেকে আসা হিন্দিভাষীদের প্রতি আক্রমণ করা হচ্ছে, এটি অনেকেই জানেন।”
অগ্নিমিত্রার এই অভিযোগের পর, বিহারের সাংসদ অশোক কুমার যাদব বলেন, “বাংলায় বিহারীদের শোষণের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আমি আবারও বলবো, বাংলায় বিহারীরা সম্মান পেয়েছে, রোজগার পেয়েছে, তাই বাংলার মাটিকে প্রণাম জানাই।”
এ দিন আসানসোলের বৈঠকে বিজেপির দলীয় কর্মসূচি ও বিহারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে আরও আলোচনা হয়, তবে এই দৃষ্টিভঙ্গির মেলবন্ধন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে।