মাত্র ১২ বছর বয়সেই পারমাণবিক ফিউশন চুল্লি বানায় খুদে! FBI-এর নজরে নাবালক বিজ্ঞানী

সম্প্রতি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেমফিস শহরের বাসিন্দা ১২ বছর বয়সী এক নাবালক বিজ্ঞানীর তৈরি পারমাণবিক ফিউশন চুল্লি নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই খুদে বিজ্ঞানী, যার নাম জ্যাকসন ওসওয়াল্ট, মাত্র ১২ বছর বয়সে নিজের শোওয়ার ঘরে একটি সম্পূর্ণ কার্যকরী ‘নিউক্লিয়ার ফিউশন রিঅ্যাক্টর’ (পারমাণবিক ফিউশন চুল্লি) তৈরি করেছে, যা দেখে গোটা দুনিয়া অবাক! এমনকি, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-ও তার বাড়িতে পৌঁছে যায়।
এই ঘটনা যদিও নতুন নয়, তবে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। জ্যাকসন নিজেই তার এক্স (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডেলে গত বছরের ২০ ডিসেম্বর এই বিষয়টি শেয়ার করেছিলেন। সেখানে তিনি জানান, বিশ্বের কনিষ্ঠতম ব্যক্তি হিসেবে পারমাণবিক ফিউশন চুল্লি তৈরি করার জন্য তার নাম গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
জ্যাকসনের এই সফল যাত্রার পেছনে প্রেরণা ছিল মার্কিন তরুণ পদার্থবিদ টেলর উইলসন, যিনি মাত্র ১৪ বছর বয়সে পারমাণবিক ফিউশন রিঅ্যাক্টর তৈরি করেছিলেন। টেলরের সেই অভিজ্ঞতা শোনার পর জ্যাকসন দৃঢ়প্রতীজ্ঞ হয়েছিলেন যে, সে এমন কাজ করবে যা আগে কেউ করেনি।
শুরুতে, জ্যাকসন একটি ‘ডেমো ফিউসর’ তৈরি করেছিল, যা ছিল একটি কার্যকরী পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরের প্রথম ধাপ। এই কাজের জন্য তাকে বেশ কিছু উপকরণ প্রয়োজন হয়েছিল, যা তার বাবা-মা তাকে সরবরাহ করেছিলেন। তবে, সমস্যার আগেই, তার ফিউশন রিঅ্যাক্টর সম্পূর্ণরূপে কার্যকরী হয়ে ওঠে না। তাকে ইবে থেকে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে হয়েছিল এবং পরবর্তীতে একটি ভ্যাকিউম চেম্বার তৈরি করে ট্যান্টালাম গ্রিড নির্মাণ করে সফলতা অর্জন করে।
জ্যাকসন জানিয়েছে, প্রায় এক বছরের কঠোর পরিশ্রমের পর, ১২ বছর বয়সেই সে সফলভাবে পারমাণবিক ফিউশন চুল্লি তৈরি করতে সক্ষম হয় এবং এটি কার্যকরী প্রমাণিত হয়।
এদিকে, সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে চর্চা শুরু হওয়ার পর, এফবিআই এর গোয়েন্দারা তার বাড়িতে পৌঁছে যান এবং সুরক্ষা পরীক্ষা শুরু করেন, যাতে তার পারমাণবিক ফিউশন চুল্লি থেকে কোনো ক্ষতিকর বিকিরণ হচ্ছে কিনা তা যাচাই করা হয়। তবে, তারা কোনও ক্ষতিকর বিকিরণ বা বিপজ্জনক উপাদান না পেয়ে জ্যাকসনকে তার কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন। এই ব্যাপারে জ্যাকসন মজা করে তার এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “আমি এখনও একজন মুক্ত পুরুষ!”
এভাবেই, ১২ বছরের এই বিজ্ঞানী নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও প্রতিভার মাধ্যমে পৃথিবীকে চমকে দিয়েছে। তার এই কীর্তি শুধুমাত্র গিনেস বুকে জায়গা করে নেয়নি, বরং ফিউসন বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকেও প্রশংসিত হয়েছে।