OMG! ঋণের টাকা শোধ করতে না পারায় কিডনি বিক্রি করাল পাওনাদার, গ্রেফতার হলেন অভিযুক্ত

এ যেন সিনেমার গল্প! একদিকে মর্মস্পর্শী, অন্যদিকে গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো ঘটনা। সুদের টাকা শোধ করতে না পারায় এক অসহায় যুবককে কিডনি বিক্রির চাপ দেয় এক সুদখোর ব্যবসায়ী। বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই যুবক। ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে কিডনি পাচারকারী চক্রের অন্যতম মাথা বিকাশ ঘোষ ওরফে শীতল।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংসার চালাতে গিয়ে দেনার জালে জড়িয়ে পড়েন এই যুবক। অশোকনগর থানার হরিপুর ভৈরব তলা এলাকার বিকাশ ঘোষের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা সুদে ধার নেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সুদে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও আসল ৬০ হাজার টাকা শোধ করতে পারেননি। এরপর সুদখোর বিকাশ ঘোষ ওরফে শীতল যুবকের কাছে টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিতে থাকে। অসহায় যুবক তার দুরবস্থার কথা জানালে অভিযুক্ত তাকে কিডনি বিক্রির প্রস্তাব দেয়।
বাধ্য হয়ে যুবক ও তাঁর স্ত্রী সিদ্ধান্ত নেন কিডনি বিক্রি করে দেনা পরিশোধ করবেন। বিকাশ ঘোষ এক মহিলার মাধ্যমে কিডনি বিক্রির ব্যবস্থা করে দেয়। পরিকল্পনা মতো, যুবকের স্ত্রী কলকাতার একটি নামকরা বেসরকারি হাসপাতালে কিডনি দান করেন। কিন্তু এরপরও সুদখোরের লোভ মেটেনি। ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে তিনি ২ লক্ষ টাকারও বেশি দাবি করেন। অথচ যুবক ইতিমধ্যে সুদ বাবদ ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছিলেন।
কোনও উপায় না দেখে যুবক অশোকনগর থানার দ্বারস্থ হন। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত বিকাশ ঘোষকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার তাকে আদালতে পেশ করা হয় এবং পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশের অনুমান, এই কিডনি পাচার চক্রের সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারে। তদন্তে এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সুদের জালে আটকে অসহায় মানুষের জীবন কীভাবে বিপন্ন হয়ে পড়ে, তা ফুটে উঠেছে এই মর্মান্তিক ঘটনায়। পুলিশ এখন এই চক্রের মূল উৎস ও হাসপাতালের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে।