“সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, অবিশ্বাস্য”-নগদ উদ্ধারের ভিডিও প্রকাশ্যে এলেও, অস্বীকার বিচারপতির ভার্মার

দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার সরকারি বাংলো থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র শোরগোল পড়ে গেছে। শনিবার সুপ্রিম কোর্ট এই ঘটনা সংক্রান্ত তদন্তের রিপোর্ট, ছবি ও ভিডিও নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। এই রিপোর্টের সঙ্গে দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায়ের জমা দেওয়া প্রতিবেদন এবং বিচারপতি ভার্মার বক্তব্যও শীর্ষ আদালত প্রকাশ করেছে। তবে বিচারপতি যশবন্ত ভার্মা পুরো বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছেন, এটি তাঁকে ফাঁসানোর একটি ষড়যন্ত্র।
বিচারপতি ভার্মা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ঘটনার দিন তিনি বাসভবনে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি বলেন, “আগুন নেভানোর পর আমার মেয়ে বা বাড়ির কোনও কর্মীকে পোড়া নগদ টাকা দেখানো হয়নি। আমি বা আমার পরিবারের কেউ স্টোর রুমে কোনও নগদ টাকা রাখিনি। এই নগদ টাকা আমাদের ছিল বলে ধারণা করা সম্পূর্ণ হাস্যকর। কর্মীদের কোয়ার্টারের কাছে বা যে স্টোর রুমে সহজেই যে কেউ যাতায়াত করতে পারে, সেখানে এত বিপুল পরিমাণ টাকা থাকবে—এটা ভাবাই অযৌক্তিক ও অবিশ্বাস্য।” তিনি আরও জানান, ওই ঘরটি তাঁর মূল বাসভবন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
সুপ্রিম কোর্টের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের পর বিচারপতি ভার্মার বাসভবনে পড়ে রয়েছে পোড়া টাকার বান্ডিল। অনেক নোট পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, কিছু তখনও জ্বলছিল। এই দৃশ্য ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
কী ঘটেছিল ১৪ মার্চ?
গত ১৪ মার্চ, হোলির রাতে দিল্লির লুটিয়েন্স জোনে অবস্থিত বিচারপতি ভার্মার সরকারি বাসভবনে আগুন লাগে। দমকলকর্মীরা আগুন নেভাতে এসে স্টোর রুম থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করে। ঘটনার সময় বিচারপতি ভার্মা শহরের বাইরে ছিলেন। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হল এবং টাকার উৎস কী, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
সুপ্রিম কোর্টের পদক্ষেপ
এই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না তিন বিচারপতির একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। এই কমিটিতে রয়েছেন পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি শীল নাগু, হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জিএস সান্ধাওয়ালিয়া এবং কর্নাটক হাইকোর্টের বিচারপতি অনু শিবরমন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে বলা হয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিচারপতি ভার্মাকে কোনও বিচারকার্যে নিযুক্ত না করতে।
বিচারপতি ভার্মার প্রতিক্রিয়া
বিচারপতি ভার্মা তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমি যখন আগুনের পর স্টোর রুম পরিদর্শন করি, তখন কোনও টাকা দেখিনি। পরে পুলিশের দেওয়া ভিডিওতে টাকার উপস্থিতি দেখানো হয়েছে। এটা প্রমাণের সঙ্গে ছেদাছেদির গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।” তিনি আরও দাবি করেন, এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে অনলাইনে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল, যা তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ন করার একটি পরিকল্পিত চেষ্টার অংশ।
চলছে তদন্ত
সুপ্রিম কোর্টের প্রকাশিত রিপোর্টে দিল্লি পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় অরোরার দেওয়া তথ্যও রয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ সকালে স্টোর রুম থেকে পোড়া টাকা ও ধ্বংসাবশেষ সরানো হয়। তবে টাকার পরিমাণ বা উৎস এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ ও দমকল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগুন স্টোর রুমে সীমাবদ্ধ ছিল। তদন্ত কমিটি এই ঘটনার পেছনের সত্যতা ও বিচারপতি ভার্মার অভিযোগের বিষয়ে গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে।
এই ঘটনা ভারতীয় বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও অখণ্ডতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে বিচারপতি ভার্মার ভবিষ্যৎ এবং এই রহস্যের সমাধান।