মেরঠ হত্যাকাণ্ড, স্ত্রী মুসকান ও প্রেমিক সাহিলের নৃশংসতার ভয়ঙ্কর দিক উন্মোচিত

মেরঠের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উঠে আসা তথ্য শিউরে দিচ্ছে সকলকে। প্রাক্তন মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুতকে হত্যার পর তাঁর দেহ টুকরো টুকরো করে সিমেন্টের ড্রামে ভরেছিল স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি এবং তার প্রেমিক সাহিল শুক্লা। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে প্রকাশ, সৌরভের বুকে একাধিকবার ছুরি দিয়ে কোপানো হয়েছিল, যা তাঁর হৃৎপিণ্ড ফুটো করে দিয়েছে। এছাড়াও, তাঁর মাথা, হাত এবং পা আলাদা করা হয়েছিল।
ময়নাতদন্তের ভয়ঙ্কর তথ্য:
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, সৌরভের মৃত্যুর কারণ অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ। তাঁর হৃৎপিণ্ডে তিনটি গভীর ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা থেকে বোঝা যায়, তাঁকে কতটা হিংস্রভাবে আক্রমণ করা হয়েছিল। ছুরির আঘাতে হৃৎপিণ্ড ফুটো হয়ে গিয়েছিল। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই ধরনের নৃশংস হত্যা তারা আগে কখনও দেখেননি।
পুলিশ সুপার (শহর) আয়ুশ বিক্রম সিং বলেন, “ড্রামে যাতে দেহাংশগুলো ধরানো যায়, তাই এত টুকরো করা হয়েছিল। সিমেন্টের ফলে দেহাংশগুলির যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। ময়নাতদন্তের অন্তত দু’সপ্তাহ আগে সৌরভের মৃত্যু হয়েছিল, তাই তাঁর দেহাংশে পচন ধরেছিল।”
হত্যাকাণ্ডের পদ্ধতি:
গত ৪ মার্চ সৌরভ রাজপুতকে নেশা করিয়ে বেহুঁশ করে দেওয়া হয়। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর দেহ টুকরো টুকরো করা হয়। পরে সিমেন্ট দিয়ে একটি ড্রামে ভরে সিমেন্ট ঢেলে দেওয়া হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মুসকান স্বীকার করেছে যে, সৌরভকে কুপিয়েছে সে।
সম্পর্কের ইতিহাস:
মুসকান এবং সৌরভ ২০১৬ সালে পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে করেছিলেন। তাঁদের একটি ছয় বছরের মেয়ে রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মুসকান এবং সাহিল স্কুলজীবন থেকেই একে অপরকে চিনতেন। ২০১৯ সালে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে ফের তাদের যোগাযোগ শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে সম্পর্ক দৃঢ় হতে থাকে।
গ্রেফতার ও তদন্ত:
গত ১৮ মার্চ পুলিশে অভিযোগ জানানো হলে, মুসকান ও সাহিলকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য স্বীকার করেছে। পুলিশ এখন এই মামলার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেষ কথা:
মেরঠের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মুসকান ও সাহিলের এই নিষ্ঠুরতা সকলকে হতবাক করেছে। পুলিশের তদন্ত এখনও চলছে এবং এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সামনে আসার অপেক্ষায় রয়েছে সবাই। আগামী দিনগুলোতে এই মামলার কী গতি হয়, তা নিয়ে চোখ রাখবে গোটা দেশ।