মেরঠ হত্যাকাণ্ড, স্ত্রী মুসকান ও প্রেমিক সাহিলের নৃশংসতার ভয়ঙ্কর দিক উন্মোচিত

মেরঠে মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুতের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া তাঁর স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি এবং প্রেমিক সাহিল শুক্লার বিরুদ্ধে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত ৪ মার্চ সৌরভকে হত্যার পর তাঁর দেহ ১৫ টুকরো করে ড্রামে ভরে রেখে পালিয়ে যায় মুসকান ও সাহিল। এবার তদন্তে সামনে এসেছে মুসকানের একটি হোয়াটসঅ্যাপ ভয়েস নোট, যা এই হত্যাকাণ্ডের পরের ঘটনাকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে।

হোয়াটসঅ্যাপ ভয়েস নোটে মুসকানের নির্দেশ:
ভাইরাল হওয়া ভয়েস নোটে মুসকানকে একজন ক্যাব চালককে কেক আনার নির্দেশ দিতে শোনা যায়। এই কেকটি সাহিল শুক্লার জন্য অর্ডার করা হয়েছিল। মুসকান ক্যাব চালককে নির্দেশ দেন, কেক পাওয়ার পর তাঁকে ফোন না করে মেসেজ করতে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এটা সাহিলের জিনিস, তাই তাঁকে ফোন না করতে।” এই ভয়েস নোটটি গত ১১ মার্চের, অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পরের।

হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা:
গত ৪ মার্চ মুসকান ও সাহিল সৌরভকে প্রথমে ঘুমের ওষুধ দিয়ে অচৈতন্য করে। এরপর তাঁর গলা কেটে দেহকে ১৫ টুকরো করে ফেলে। দেহ লোপাট করতে না পেরে তারা সৌরভের দেহ একটি ড্রামে ভরে বাথরুমে লুকিয়ে রাখে। এরপর তারা সিমলার উদ্দেশ্যে পালিয়ে যায়। মেরঠের এসএসপি ডঃ বিপিন টাডা জানিয়েছেন, “সৌরভকে হত্যার পর তাঁরা দেহ লোপাট করতে চেয়েছিল। কিন্তু, সেটা করতে না পেরেই তাঁরা দেহ বাথরুমে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।”

মানালিতে প্রেমিকের সঙ্গে মুসকানের সময় কাটানো:
হত্যাকাণ্ডের পর মুসকান ও সাহিল মানালিতে পালিয়ে যায়। সেখানে তাদের একসাথে সময় কাটানোর ভিডিও সামনে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মুসকান সাহিলের গালে গাল ঘষে রং খেলছেন। এই ভিডিওটি হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতার পরিপ্রেক্ষিতে আরও বেশি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়া:
এই হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা এবং মুসকান ও সাহিলের নির্লজ্জ আচরণে গোটা দেশ শিউরে উঠেছে। হত্যাকাণ্ডের পরের ঘটনাগুলো সামনে আসার পর এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। নেটিজেনরা মুসকান ও সাহিলের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।

শেষ কথা:
মেরঠের এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মুসকান ও সাহিলের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাদের বিরুদ্ধে পাওয়া ভয়েস নোট এবং ভিডিও এই মামলাকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ হওয়া এবং আসামিদের কঠোর শাস্তি পাওয়া নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আগামী দিনগুলোতে এই মামলার কী গতি হয়, তা নিয়ে চোখ রাখবে সবাই।