বীরভূম তৃণমূল কোর কমিটির বৈঠকে গরহাজির অনুব্রত মণ্ডল, উত্তপ্ত রাজনীতি

বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটির বৈঠকে গরহাজির জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। বোলপুর দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ, সিউড়ির বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী, রাজ্যের কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, বিধানসভার উপাধ্যক্ষ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ। তবে অনুব্রত মণ্ডল এবং কোর কমিটির সদস্য সুদীপ্ত ঘোষ বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। সুদীপ্ত ঘোষ চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতি নিয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখের বিস্ফোরক মন্তব্য উত্তপ্ত করেছে বীরভূমের রাজনীতি।

অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতি নিয়ে কাজল শেখের মন্তব্য:
কোর কমিটির সদস্য ও জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি বলেন, “দেউচা-পাচামি নিয়ে কলকাতার বিদ্যুৎভবনে বৈঠক হচ্ছে। সেখানে পিডিসিএল-এর ডিরেক্টর পিবি সেলিম, জেলাশাসক, জেলার পুলিশ সুপার, জমিদাতা সকলেই আছেন। বীরভূমে দেউচা নিয়ে কোনও বৈঠক আছে বলে আমার জানা নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, “অনুব্রত মণ্ডল কেন বৈঠকে নেই, তা তাঁকেই জিজ্ঞাসা করুন। আজ বৈঠক হয়েছে। গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।”

অনুব্রত মণ্ডলের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা:
অন্যদিকে, অনুব্রত মণ্ডলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি দেউচা-পাচামি নিয়ে বিশেষ বৈঠকে যোগ দিতে মহম্মদবাজারে গিয়েছিলেন। এই কারণেই তিনি কোর কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে কাজল শেখ এই দাবিকে সন্দেহের চোখে দেখেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, বীরভূমে দেউচা-পাচামি নিয়ে কোনও বৈঠকই হয়নি।

কোর কমিটির বৈঠকের গুরুত্ব:
২৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে সবাইকে নিয়ে চলতে এবং কাজল শেখকে সব কিছুতে ডেকে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এরপর ১৫ ডিসেম্বর রামপুরহাটে শেষ কোর কমিটির বৈঠক হয়েছিল। সেখানে প্রতি মাসে কোর কমিটির বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন বৈঠক না হওয়ায় কাজল শেখ সরব হয়েছিলেন।

বৈঠকের আলোচ্য বিষয়:
বৈঠকে উপস্থিত কোর কমিটির আহ্বায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী বলেন, “কোর কমিটির বৈঠকের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ দেউচা-পাচামি। সেখানের দায়িত্বে আছেন অনুব্রত মণ্ডল। সেখানেই গিয়েছেন তিনি। আর কোর কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনার বিষয় আমাদের কমিটির চেয়ারম্যান অনুব্রত মণ্ডলকে জানাবো। আশাকরি তিনি একমত হবেন।”

শেষ কথা:
অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতি এবং কাজল শেখের মন্তব্য বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। দলীয় ঐক্য বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল ঠিক করতে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে অনুব্রত মণ্ডল এবং কাজল শেখের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় দলের মধ্যে বিভেদের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এই উত্তপ্ত রাজনীতি কী দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে চোখ রাখবে সবাই।