বাংলাদেশে হিন্দু-নির্যাতনের পিছনে ‘ডিপ স্টেট’? বড় বার্তা দিলো রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ

বাংলাদেশে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে চলমান হিংসা, অবিচার এবং নিপীড়ন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভায় (এবিপিএস) তারা বাংলাদেশের হিন্দু সমাজের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। আরএসএস-এর মতে, মৌলবাদী শক্তি এই নির্যাতনের পেছনে রয়েছে এবং পাকিস্তান ও ‘ডিপ স্টেট’-এর উস্কানি এই হিংসাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
হিংসার চিত্র
সভায় উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে একের পর এক মঠ, মন্দির, দুর্গাপুজোর প্যান্ডেল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটছে। মূর্তি ভাঙা, নৃশংস হত্যাকাণ্ড, সম্পত্তি লুটপাট, মহিলাদের অপহরণ ও নির্যাতন, এমনকি জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের মতো ঘটনা লাগাতার সামনে আসছে। আরএসএস-এর প্রতিনিধিরা বলছেন, এই ঘটনাগুলোকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক বলে চিহ্নিত করা সত্যকে অস্বীকার করার সমান। তাঁদের বক্তব্য, এর পেছনে ধর্মীয় উদ্দেশ্য রয়েছে, যা লুকিয়ে রাখা যায় না।
আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র
আরএসএস-এর দাবি, কিছু আন্তর্জাতিক শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতের প্রতিবেশী অঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা অবিশ্বাস ও সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করে এক দেশকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে দাঁড় করাচ্ছে। প্রতিনিধি সভা মনে করে, পাকিস্তান এবং ‘ডিপ স্টেট’-এর মতো শক্তি এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তারা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞ ও চিন্তাবিদদের এই ভারত-বিরোধী পরিবেশের দিকে নজর রাখতে এবং এর মূল উৎস উন্মোচন করতে আহ্বান জানিয়েছে।
হিন্দু সমাজের প্রতিরোধ
সভায় বাংলাদেশের হিন্দু সমাজের সাহসিকতার প্রশংসা করা হয়েছে। আরএসএস-এর মতে, তারা শান্তিপূর্ণ, সংগঠিত এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এই নৃশংসতার বিরোধিতা করে চলেছে। ভারতসহ বিশ্বের হিন্দু সমাজ তাদের নৈতিক ও মানসিক সমর্থন দিয়ে এই প্রতিরোধে শক্তি জুগিয়েছে, যা প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থার ভূমিকা
আরএসএস প্রতিনিধি সভা রাষ্ট্রসংঘ (জাতিসংঘ) এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন জানিয়েছে, বাংলাদেশে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি চলমান অমানবিক আচরণকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে। তারা বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এই হিংসাত্মক কার্যকলাপ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে।
ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান
প্রতিনিধি সভা ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ করেছে, বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সুরক্ষা, সম্মান এবং কল্যাণ নিশ্চিত করতে সব রকম প্রচেষ্টা চালাতে। তারা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অবিরাম ও অর্থবহ সংলাপের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করার পরামর্শ দিয়েছে।
সম্পর্কের শিকড়
আরএসএস-এর বক্তব্যে বলা হয়েছে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং সামাজিক বন্ধনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই একটি দেশে অশান্তি হলে তা পুরো অঞ্চলের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠে। এই সম্পর্ককে আরও মজবুত করার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের হিন্দু সমাজের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে আরএসএস-এর এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই বিষয়টিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে। তবে এই হিংসার মূল কারণ ও সমাধান কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে আলোচনা এখনও চলমান।