দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আহত কমপক্ষে ৫০

পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানার আলমপুরে জাতীয় সড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে বর্ধমান-সিউড়ি জাতীয় সড়কের আলমপুর মোড়ে দুটি বেসরকারি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। রেষারেষির সময় ওভারটেক করতে গিয়ে এই বিপর্যয় ঘটে বলে জানা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইলামবাজার থেকে বর্ধমানমুখী একটি বেসরকারি বাসের সঙ্গে বর্ধমান থেকে গুসকরামুখী আরেকটি বেসরকারি বাসের মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। দুর্ঘটনার পর দুই বাসের যাত্রীরা গুরুতরভাবে জখম হন। প্রথমে গুরুতর আহতদের একটি বাসে তুলে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। যাঁদের আঘাত তুলনামূলকভাবে কম ছিল, তাঁদের ছোট গাড়িতে করে একই হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গুসকরামুখী বাসটি রেষারেষির সময় ওভারটেক করতে গিয়ে বর্ধমানমুখী বাসের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা মারে। এই সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে দুটি বাসের সামনের অংশ মুচড়ে গেছে। আহত যাত্রী অমিত দাস বলেন, “রেষারেষি করে ওভারটেক করতে গিয়েই এই বিপত্তি ঘটেছে। গুসকরামুখী বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আমাদের বাসকে সামনে থেকে ধাক্কা মারে।” তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার সময় চিৎকার ও আতঙ্কে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
যাত্রীদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, গুসকরামুখী বাসের চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন, যদিও এই দাবির সত্যতা এখনও নিশ্চিত করেনি পুলিশ। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই রাস্তায় বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিংয়ের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এক বাসিন্দা বলেন, “এই মোড়ে আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দরকার।”
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উদ্ধার কাজে সহায়তা করে। দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “ওভারটেকিংয়ের সময় নিয়ন্ত্রণ হারানোই প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ বলে মনে হচ্ছে। তবে চালকের অবস্থা ও অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হলেও বেশিরভাগের চোট তুলনামূলকভাবে কম। তদন্তে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ ও দায় নির্ধারণের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।