OMG! সামনে হঠাৎ ট্রেন, বাঁচতে পাশের লাইনে ঝাঁপ, রেলব্রিজ থেকে পড়ে মৃত্যু হলো মহিলার

শুক্রবার সকালে লেকটাউন দক্ষিণদাঁড়ির কাছে রেলব্রিজে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ৩৮ বছর বয়সী এক মহিলা। রেললাইন ধরে পারাপারের সময় ট্রেনের হর্ন শুনে প্রাণ বাঁচাতে পাশের লাইনে ঝাঁপ দেন তিনি। কিন্তু ব্রিজের ফাঁক গলে নীচে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই মহিলা সকাল সাতটা নাগাদ রেললাইন ধরে হেঁটে একদিক থেকে অন্যদিকে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ পিছন থেকে ট্রেনের হর্ন শুনে ভয় পেয়ে তিনি তড়িঘড়ি পাশের লাইনে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু রেলব্রিজের ফাঁক দিয়ে নীচে পড়ে যান। স্থানীয়রা জানান, ব্রিজের লোহার পিলারে তাঁর মাথা আঘাত পায়, ফলে মাথা ফেটে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি ব্রিজের নীচে পড়ে ছিলেন।

ঘটনার প্রায় আধঘণ্টা পর খবর পেয়ে লেকটাউন থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে আর জি কর হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রেললাইন দিয়ে পারাপার এলাকার অনেকের জন্য নিত্যদিনের ঘটনা। তবে ব্রিজের ফাঁক এবং ট্রেনের গতি এই ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। একজন বাসিন্দা বলেন, “এখানে প্রায়ই লোকজন রেললাইন পার হয়। কিন্তু ব্রিজে ফাঁক থাকায় এমন বিপদের আশঙ্কা সবসময় থাকে।”

পুলিশের তদন্ত

লেকটাউন থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। মহিলার পরিচয় এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তারা রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং ঘটনার সময় কোন ট্রেনটি ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখছে। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “আমরা মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।”

নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

এই দুর্ঘটনা রেলব্রিজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, ব্রিজে ফাঁক বন্ধ করা বা পথচারীদের জন্য নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় এমন ঘটনা ঘটছে। এর আগেও এই এলাকায় রেললাইনে দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে।

লেকটাউনের এই ঘটনা একদিকে যেমন শোকজনক, তেমনই রেলপথে পথচারীদের নিরাপত্তার গুরুত্ব আরও একবার সামনে এনেছে। পুলিশ ও রেল কর্তৃপক্ষের তরফে এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকে নজর রয়েছে সবার।