বিদ্যুৎ নেই, বন্ধ রয়েছে লিফট! রোগীদের ভোগান্তি অব্যাহত ইসলামপুর মহাকুমা হাসপাতালে

উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে লিফট বসানোর ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও তা এখনও চালু হয়নি। ফলে সঙ্কটাপন্ন রোগীদের স্ট্রেচারে করে সিঁড়ি ভেঙে ওয়ার্ডে নিয়ে যেতে হচ্ছে, যা রোগীদের কষ্ট বাড়িয়ে তুলছে। সিঁড়িতে ওঠার সময় স্ট্রেচার থেকে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে। আশপাশের এলাকার মানুষ এই হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল, কিন্তু লিফটের অভাবে রোগীদের দ্রুত পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

লিফটের উদ্বোধন হলেও অকেজো

২০১৬ সালে কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে হাসপাতালে লিফট স্থাপন করা হয় এবং এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকা এবং লিফট অপারেটর নিয়োগ না হওয়ায় এটি আজও ব্যবহারের অযোগ্য। ফলে রোগীদের সিঁড়ি বা র‌্যাম্প ব্যবহার করে উপরের তলায় নিয়ে যেতে হচ্ছে, যা বয়স্ক বা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ।

রোগীদের আত্মীয়দের অভিযোগ

মহম্মদ ইউসুফ আলি নামে এক রোগীর আত্মীয় জানান, “আমার ছেলে এতটাই অসুস্থ ছিল যে হাঁটতে পারছিল না। সিঁড়ি ভেঙে তাকে কষ্ট করে উপরে নিয়ে যেতে হয়েছে। র‌্যাম্প আছে, কিন্তু আমি এই বয়সে একা হুইলচেয়ার ঠেলে কীভাবে নিয়ে যাব?” অপর এক রোগীর আত্মীয় রুকসানা বেগম বলেন, “আমার স্বামী প্যারালাইসিসে ভুগছেন। হাসপাতালের কেউ সাহায্য করেনি। লিফট থাকলে অন্তত কোনওভাবে উপরে নিয়ে যাওয়া যেত। শেষে টোটোচালকের সাহায্য নিয়ে তাকে ভর্তি করতে হয়েছে।”

সমস্যার মূল কারণ

হাসপাতালে লিফট চালু না হওয়ার দুটি প্রধান কারণ—বিদ্যুৎ সংযোগের অভাব এবং লিফট অপারেটরের পদ শূন্য। উদ্বোধনের সময় বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা না করেই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছিল। ইসলামপুর রোগী কল্যাণ সমিতি এই সমস্যা নিয়ে আলোচনা করলেও কোনও ফল হয়নি। সমিতি লিফট চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

হাসপাতালের ডেপুটি সুপার সন্দীপন মুখোপাধ্যায় জানান, “বিদ্যুৎ সংযোগের খরচের হিসেব তৈরি করে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনই কোনও অপারেটর নিয়োগের পরিকল্পনা নেই। লিফট চালু হলে রোগী বা তাঁদের আত্মীয়রা নিজেরাই তা ব্যবহার করতে পারবেন।” তবে এই প্রক্রিয়া কবে নাগাদ সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়নি।

জনগণের ক্ষোভ

লিফট চালু না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। হাসপাতালটি আশপাশের গ্রামীণ এলাকার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরিষেবার কেন্দ্র। কিন্তু অবকাঠামোগত এই ত্রুটির কারণে রোগীদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন, লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে লিফট বসানোর পরও তা অকেজো কেন?

সমাধানের অপেক্ষা

রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের অনুমোদন এবং বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত এই সমস্যার সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা কম। ততদিন রোগীদের সিঁড়ি ভেঙে বা র‌্যাম্পের উপর দিয়ে কষ্ট করে উপরের তলায় যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ সত্ত্বেও দ্রুত সমাধান না হলে এই ভোগান্তি অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।